ভারত যখন সবচেয়ে বেশি চাপে, ইশান কিশান ঠিক তখনই হাজির। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। কোরোগি স্পোর্টস পার্কের উইকেট নিয়ে ম্যাচের আগে থেকেই কথা হচ্ছিল। ফাটলধরা পিচ, বল টার্ন করা আর নিচু হয়ে আসা বল চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাড়াচ্ছিল সবার জন্যে। কিন্তু বৈভব সুরিয়াভানশি কিংবা ইশানের মতো ব্যাটারদের কাছে উইকেট আসলে বড় কিছু না। দলের রান দরকার, মাথায় শুধু এটুকুই থাকে। বাকিটা ঝাঁপিয়ে পড়ে মিটিয়ে দেন।
বৈভব যে ঝড় শুরু করেছিলেন, তিনি ফিরে যাওয়ার পর সেই ঝড়ের দায়িত্ব নিলেন ইশান। ছয় ওভারে ৫৮ রানের সময় ক্রিজে এসেছিলেন, তখন ভারত ২ উইকেট হারিয়ে বসে আছে। শুরুটা ছিল ধীরে, প্রথম রান এল চার বল পর। তারপর থেকে সিংহভাগ সময় উইকেটের ওপর দিয়েই খেললেন। নবম ওভারে ওয়ানুজা সাহানকে স্লগ সুইপে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা। এরপর একে একে সব স্পিনার কে নিয়ে ছেলেখেলা শুরু করলেন।

একপাশে উইকেট পড়ছে, শ্রেয়াস, অক্ষর, তিলক, দুবে সবাই এল আর গেল। শ্রীলঙ্কান স্পিনাররা চেপে ধরেছিল পুরো ইনিংস জুড়ে। ইশান তখন আরও শান্ত, আরও ধারালো। রিভার্স সুইপে বাউন্ডারি, ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে ছক্কা। কপালও সঙ্গ দিয়েছে কয়েকবার। ৫৫ রানে মিড অনে ক্যাচ ফসকে জীবন পেয়েছেন, আরেকবার বল পড়েছে দুই ফিল্ডারের ঠিক মাঝখানে। তবে ভাগ্যের দোহাই দিয়ে এই ইনিংসকে ছোট করা যাবে না। শেষ ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোকে দুটো ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে নিয়ে গেলেন ১৬৯ পর্যন্ত।
৪৬ বলে অপরাজিত ৮০, চারটি চার আর পাঁচটি ছক্কা। এই উইকেটে ১৭০ প্রায় ২০০ রানের সমান।কিছুদিন আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ৮১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেন সেই একই জাদু আরেকবার দেখালেন। ২০২৬ সালে এটি তার অষ্টম পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস।
ফাইনালের পথে বোলারদের জন্য যা করার, তিনি করে দিয়েছেন। বাকিটা এখন বুমরাহদের হাতে।












