অবশেষে বিশ্বসেরার মুকুট পরলেন হ্যারি কেন

বহু আলোচনা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতে নিলেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে কেনের ক্যারিয়ারের মুকুটে যুক্ত হলো আরও এক বর্ণিল রত্ন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অবিরাম গোলের পসরা সাজিয়ে অবশেষে বিশ্ব ফুটবলের ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গেলেন হ্যারি কেন। বহু আলোচনা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতে নিলেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে কেনের ক্যারিয়ারের মুকুটে যুক্ত হলো আরও এক বর্ণিল রত্ন।

লন্ডনের জাঁকজমকপূর্ণ এই রাতে যখন তাঁর হাতে এই সোনালী ট্রফি তুলে দেওয়া হয়, তখন তা হয়ে ওঠে এক রূপকথার মতো আবহ। পুরো ফুটবল মৌসুমে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের আলোয় চারপাশ আলোকিত করে রেখেছিলেন কেন।

পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে পরিষ্কার হয়ে ওঠে কেন তিনি সেরার সেরা। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মৌসুমে তিনি ১০৫টি গোল কন্ট্রিবিউট করেছেন। তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৯০টি গোল এবং ১৫টি অ্যাসিস্ট। বুন্দেসলিগা ও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি ক্লাব জার্সিতে উঁচিয়ে ধরেছেন তিনটি শিরোপা।

তবে হ্যারি কেনের এই ব্যালন ডি’অর জয় কেবল একটি মৌসুমের সাফল্য নয়। এটি বহু বছরের ত্যাগ, নাছোড়বান্দা মানসিকতা আর প্রতীক্ষার এক মধুর পরিণতি। ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও তাজা টটেনহ্যাম হটস্পার্সের সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি।

প্রিমিয়ার লিগে দিনের পর দিন হ্যারি কেন ছিলেন বিশ্বমানের স্ট্রাইকারদের একজন। প্রতি মৌসুমে গোলের পর গোল করে গেছেন, হ্যাটট্রিকের পর হ্যাটট্রিক করেছেন। কিন্তু ক্লাবটির সামগ্রিক দলগত দুর্বলতা এবং শিরোপাভাগ্য তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে বারবার ম্লান করে দিয়েছিল।

বছরের পর বছর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করার পরও ট্রফির খরায় ভুগেছেন, ব্যালন ডি’অরের আলোচনাতেও তাঁর নাম হারিয়ে যেত পেছনের সারিতে। ট্রফি না থাকার সেই আক্ষেপ তখন কেনের বর্ণিল ক্যারিয়ারের একমাত্র কালো দাগ হিসেবে ধরা হতো।

কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখে পা রেখেই যেন তাঁর ভাগ্যের চাকা পুরোপুরি ঘুরে গেল। জার্মান ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পরই ঘুচে যায় তাঁর সেই চিরচেনা ট্রফি খরা। দলগত সাফল্য আর শিরোপার স্বাদ পেতে শুরু করতেই কেনের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পূর্ণ স্বীকৃতি মিলল বৈশ্বিক মঞ্চে।

​যে ট্রফি খরা একসময় তাঁর নামের পাশে বড় দাগ হয়ে বিঁধে ছিল, আজ সেই ট্রফিগুলোই হয়ে উঠল তাঁর মুকুটের সবচেয়ে উজ্জ্বল মণি। লন্ডনের মঞ্চে সোনালী গোলকটি বুক আগলে যখন হ্যারি কেন মুচকি হাসলেন, তখন গ্যালারির করতালির শব্দ ছাপিয়ে বাতাসে ভেসে বেড়াল এক সুদীর্ঘ লড়াইয়ের জয়ধ্বনি।সব আক্ষেপ ধুয়ে মুছে অবশেষে মুকুটটা নিজের করে নিলেন একসময়ের সেই ট্রফিহারা রাজপুত্র।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link