হাসান মাহমুদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইফার নিয়েছেন, ইনিংস শেষে উইকেট হয়েছে ছয়টি। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের এক নম্বর সিম বোলার তিনি, আর এক নম্বর বোলার সুযোগ পেলে এমন পারফরম্যান্স দেবেন, সেটাই স্বাভাবিক। রেকর্ডও তাই একের পর এক ধরা দিচ্ছে। ১৯ টেস্টে এটি তাঁর পঞ্চম ইনিংসে পাঁচ উইকেট, যা বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই ইনিংসে চারজন ব্যাটারকে বোল্ড করার কীর্তি গড়লেন, যা আগে কোনো বাংলাদেশি বোলার করতে পারেননি। তবু আসল খবর এই সংখ্যাগুলোর আড়ালে লুকিয়ে আছে। সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররা যতটা ভুগছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের কাছে, তার চেয়েও বেশি ভুগছেন নিজেদের দল সাজানোর কারণে।
সমস্যার শুরু একাদশ নির্বাচনে। দুজন পেসার আর তিনজন স্পিনার নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ, আর নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হচ্ছে পেসারদেরই। স্পিনাররা টার্ন পাচ্ছেন না, উইকেটও পাচ্ছেন না, ফলে সব চেষ্টার ভার গিয়ে পড়ছে পেসারদের কাঁধে। প্রথম দিনেই তিন স্পিনার মিলে ৪২ ওভার করেছেন, কিন্তু একটা উইকেটও পাননি। উইকেটের আশায় বারবার তাকাতে হয়েছে হাসান আর তাসকিনের দিকে, আর সেই প্রত্যাশা নিজে থেকেই বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে।
অধিনায়কের হাতে তাই কোনো অপশনই নেই। কে নতুন বলে ভালো, কে পুরোনো বলে ভালো, সেই হিসাব মেলানোর সুযোগ নেই, কারণ দলে পেসার মাত্র দুজন। ওয়ার্কলোডের কথা মাথায় রাখার উপায়ও থাকছে না, অথচ পেসাররা এমনিতেই ইনজুরিপ্রবণ। টানা বল করাতে হলে তার প্রভাব পড়বে ফিটনেসে। নাহিদ রানার ইনজুরির ইতিহাস তো সামনেই আছে।

তাসকিন আহমেদ নিজেও প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই অভাবের কথা মেনে নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, “এক পর্যায়ে আমার নিশ্চিতভাবেই মনে হয়েছে, আরেকজন ফাস্ট বোলার থাকলে ভালো হতো। বল যেভাবে মুভ করছিল, আরও এক-দুটি উইকেট পাওয়ার সুযোগ ছিল। আরেকজন পেসার থাকলে আমরা সেই কন্ডিশনটা আরও কিছুক্ষণ কাজে লাগাতে পারতাম।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল, সেটাও এই সমস্যারই ফল। একসময় দুই প্রান্ত থেকেই স্পিনারদের বল করতে হয়েছে, আর সেটা সহজেই পড়ে নিয়ে ক্রিজে থিতু হয়ে গেছেন দুই ব্যাটার। পেসাররা শুরুতে যে চাপ তৈরি করেছিলেন, মাঝের এই ফাঁক দিয়ে তা পুরোটাই বেরিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
হাসানের ফাইফার তাই সুখবর হলেও পুরো গল্প নয়। একজন বোলার একাই উইকেট এনে দিতে পারেন, কিন্তু একটা বোলিং আক্রমণ তৈরি হয় সঠিক ভারসাম্য দিয়ে। সেই ভারসাম্য না থাকলে সেরা পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত একটা ক্লান্ত পেস আক্রমণের লড়াই হয়েই থেকে যায়।











