নিষ্ঠুর ভাগ্যের স্বীকার ওয়েইন ম্যাডসেন

বহুল আকাঙ্খার বিশ্বকাপটায় নিশ্চয়ই নিজস্ব দ্যুতি ছড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন ওয়েইন ম্যাডসেন। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা তা আর হতে দেয়নি।

মানুষের জীবন বড় বিচিত্র। ইতিহাস গড়ার দিনটিও বনে যেতে পারে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। ওয়েইন ম্যাডসেনের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক তেমনটাই। ৪২ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিশ্বকাপে অভিষেক হল তার। কিন্তু অভিষেকের দিনেই তিনি কুপোকাত ইনজুরির ভয়াল থাবায়। কাঁধের চোটে পড়ে স্রেফ চার ওভার অবধি টিকে ছিল তার ক্রিকেট বিশ্বকাপের অভিষেক।

ওয়েইন ম্যাডসেন একটা সময় হকিও খেলেছেন। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে হকি বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতেন, তখন ছিলেন হকির জাতীয় দলে। প্রায় ৪০টার মত ম্যাচ তিনি খেলে ফেলেছিলেন ততদিনে।

কিন্তু একটা পর্যায়ে তাকে বেছে নিতে হয়েছে ক্রিকেট কিংবা হকির মধ্যে যেকোন একটি। ক্রিকেট প্রেমে মগ্ন হয়ে তিনি হকিকে বিদায় জানিয়ে দেন। এরপর তিনি মনোনিবেশ করেন ক্রিকেটে। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগ খেলার পাশাপাশি তিনি ইংল্যান্ডের কাউন্টিতেও খেলতে শুরু করেন নিয়মিত। ডার্বিশায়ারের পরিপূরক হয়ে ওঠেন ম্যাডসেন। দলটির নেতৃত্বও সামালেছেন তিনি এক সময়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার মায়া ত্যাগ করে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্নও তিনি একসময় দেখেছিলেন। টেস্ট দলের বেশ কাছাকাছিও এসেছিলেন তিনি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য ভূবনে তার পা রাখা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু অবশেষে ৩৯ বছর বয়সে দুয়ার খোলে তার। তার দাদী ছিলেন ইতালির। সেই সূত্র ধরে ইতালির জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলার সুযোগ পান।

সেই ধারাতেই তিনি এসে হাজির হন বিশ্বকাপের মঞ্চে। প্রথমবারের মত ইতালির সাথে এটি ছিল ওয়েইন ম্যাডসেনের প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। বহুল প্রতিক্ষার ক্রিকেট বিশ্বকাপে তার স্থায়িত্ব হল স্রেফ ৩ ওভার দুই বল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় চোটে পড়েন ম্যাডসেন।

কাঁধের হাড় নড় গেছে তার। কার্যত বিশ্বকাপ শেষ ইতালির অধিনায়কের। বহুল আকাঙ্খার বিশ্বকাপটায় নিশ্চয়ই নিজস্ব দ্যুতি ছড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন ওয়েইন ম্যাডসেন। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা তা আর হতে দেয়নি। এমনটা হবে সেটা দুঃস্বপ্নেও হয়ত ভাবেননি ওয়েইন ম্যাডসেন। কিন্তু নিয়তির সামনে সবাই বড্ড অসহায়।

নেপালে সাকিব-মাহেদীর অম্লমধুর শুরু

একজনের শুরুটা হয়েছিল প্রায় বিদায়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে, অন্যজনের ব্যাটে জমেনি প্রত্যাশার রং। অথচ দিনের শেষে দুজনেরই নাম উঠল পারফরম্যান্সের খাতায়। শেখ মেহেদী হাসান ব্যাট হাতে ২১ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে হিমালয়ের দেশ কাঁপালেন, আর সাকিব আল হাসান বল হাতে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন একটি উইকেট। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের জার্সিতে বাংলাদেশের দুই অলরাউন্ডারের অভিষেকটা হলো এমনই! তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের এই প্রাপ্তি শেষ পর্যন্ত ম্লান হলো দলের পরাজয়ে। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে প্রতিপক্ষ সুদূর পশ্চিম রয়্যালস, জিতল ৬ উইকেটে।

Share via
Copy link