ধনাঞ্জয়ার ‘ব্লাফে’ আটক বাংলাদেশ!

বাংলাদেশ দল উইকেটের ধরণ বুঝতে না পেরেই বরং বিপাকে পড়েছে। তারা অন্ধ ভক্তের মত এসএসসির পূর্ব রেকর্ডকে বিশ্বাস করে নিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ কি তবে ‘ব্লাফ’ এর শিকার? কলম্বো টেস্টের আগের দিন লঙ্কান অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা অকপটে বললেন তিনি টসে জিতলে ব্যাটিং নেবেন। কলম্বোর উইকেটটি ফ্ল্যাট হতে চলেছে। কিন্তু সিংহলিজ স্টেডিয়ামে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

উইকেটে অসম বাউন্স দেখা গিয়েছে। প্রথম দিনেই শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা টার্ন পেয়েছেন। এছাড়াও পেসাররাও উইকেটের সহয়তায় বলে মুভমেন্ট আদায় করেছেন। একটা পর্যায়ে বাংলাদেশ যখন উইকেটের কন্ডিশন বুঝতে পেরেছে, তখন মেরে খেলতে চেয়েছে।

আর সেই মেরে খেলতে চাওয়াই কাল হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্যে। প্রায় প্রত্যেক ব্যাটার শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। তাতে করে কলম্বো টেস্টের প্রথম দিনে ২২০ রানেই নেই বাংলাদেশের আট উইকেট।

তবে নিজেদের প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না বলেই জানিয়েছেন সাদমান ইসলাম। দিনের সেরা পারফরমার সাদমান ম্যাচ পরবর্তী প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, ‘না আমি কিছু দেখি না যে টসের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। উইকেট আলহামদুলিল্লাহ ভাল ছিল। হয়ত দিনটা আমাদের ছিল না।’

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা অবশ্য জানিয়েছে যে উইকেটটা ছিল টু পেস। অর্থাৎ উইকেটে ছিল অসম বাউন্স। শ্রীলঙ্কা দলও রীতিমত বিস্মিত হয়েছে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব স্টেডিয়ামের উইকেট দেখে। এতে করে বরং আবার প্রমাণিত হয় বাংলাদেশ দল উইকেট পড়তে ভুল করেছে খানিকটা। তারা ধনাঞ্জয়ার চতুরতার ফাঁদে পা দিয়েছে।

যদিও যেকোন টেস্টে টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। শুরুতে তুলনামূলক বেশ ভাল থাকে যেকোন কন্ডিশনের যেকোন উইকেট। বাংলাদেশ দল উইকেটের ধরণ বুঝতে না পেরেই বরং বিপাকে পড়েছে। তারা অন্ধ ভক্তের মত এসএসসির পূর্ব রেকর্ডকে বিশ্বাস করে নিয়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন কলম্বোর এই মাঠে আগেও রান হয়েছে, এখনও হবে, ব্যাটিং করাও সহজই হবে তাদের জন্যে।

কিন্তু দিনশেষে হয়েছে উল্টোটা। যদিও উইকেটের কন্ডিশন বিবেচনায় বাংলাদেশ যে ঢের পিছিয়ে আছে, সেটা বলার উপায় নেই। চাইলে এই উইকেটে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বোলারদের আরও একটিবার এগিয়ে আসতে হবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link