১০ নম্বর জার্সির সেরা একাদশ

নম্বর ১০। একজন ক্রীড়াপ্রেমীর চোখের সামনে ভেসে হয় ভেসে উঠেছে লিওনেল মেসি কিংবা শচীন টেন্ডুলকারের চিত্র। ফুটবলে জার্সির মাহাত্ম খুব বেশি থাকলেও ক্রিকেটে তেমন একটা গুরুত্ববহন করে না। কিন্তু টেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তিদের গায়ে জড়ানো নম্বর তাঁদের মতো করেই হয় যায় ইতিহাস নন্দিত।

নম্বর ১০। একজন ক্রীড়াপ্রেমীর চোখের সামনে ভেসে হয় ভেসে উঠেছে লিওনেল মেসি কিংবা শচীন টেন্ডুলকারের চিত্র। ফুটবলে জার্সির মাহাত্ম খুব বেশি থাকলেও ক্রিকেটে তেমন একটা গুরুত্ববহন করে না। কিন্তু টেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তিদের গায়ে জড়ানো নম্বর তাঁদের মতো করেই হয় যায় ইতিহাস নন্দিত।

ক্রিকেট অঙ্গনে বহু তারকা খেলোয়াড়েরা গায়ে জড়িয়েছেন এই নম্বর ১০ জার্সি। আজকে তাই এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি একাদশ সাঁজানোর প্রচেষ্টা।

  • শচীন টেন্ডুলকার (ভারত)

যার নামের পাশে রয়েছে একশটি শতক তিনিই শচীন টেন্ডুলকার। তাঁকে ঘিরে নানরকমের বিশেষণের পদচারণা নিত্যনৈমিত্তিক একটি বিষয়। ক্রিকেট ইতিহাসের সেরাদের সেরা শচীন টেন্ডুলকার তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু করেছিলেন ৯৯ নম্বর জার্সি গায়ে দিয়ে। পরবর্তীতে ৩৩ ঘুরে থিতু হন ১০ নম্বরে। আর ক্রিকেটে এই জার্সির মাহাত্ম কিংবা চাহিদা বাড়িয়ে দেন নিজের শতকের সংখ্যার গুনন সংখ্যায়। তাঁকে ছাড়া এই একাদশের ওপেনিং-এ অন্য কারো কথা চিন্তা করাও অপরাধের সামিল।  

  • ক্রেইগ ম্যাকমিলান (নিউজিল্যান্ড)

নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের তালিকায় স্থান করে নিতে খুব একটা বেগ পোহাতে হবে না ক্রেইগ ম্যাকমিলানের। তিনিও তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের অধিকাংশ সময়ে ১০ নম্বর জার্সিতে খেলছেন। ব্ল্যাক ক্যাপসদের হয়ে ম্যাকমিলান ওয়ানড খেলেছেন ১৯৭টি, তাঁর ব্যাট থেকে রান এসেছে ৪৭০৭। ৫৫ টেস্টে খেলে তিনি রান করেছেন ৩১১৬। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ছয়টি শতক হাঁকানো এই ব্যাটার তাই থাকছেন আজকের একাদশে শচীন টেন্ডুলনকারের ওপেনিং সঙ্গী।

  • স্টুয়ার্ট ল (অস্ট্রেলিয়া)

৫৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা স্টুয়ার্ট ল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন মাত্র একটি টেস্ট ম্যাচ। সেই এক টেস্টে তাঁর রান সংখ্যাও অদ্ভুতরকমভাবে ৫৪। তবে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরতেন দশ নম্বর জার্সি। নিজের খেলা ওয়ানডে ম্যাচে তাঁর গড় ছিলো প্রায় সাতাশের কাছাকাছি। রান তুলেছেন ১২৩৭। একাদশের মিডেল অর্ডারে জায়গা পেলেন ল।

  • ড্যারেন লেহম্যান (অস্ট্রেলিয়া)

একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে অস্ট্রলিয়া দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন ড্যারেন লেহম্যান। তালিকায় থাকা বাকিদের মতো তিনিও তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দশ নম্বর জার্সিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। ব্যাটিং এর পাশাপাশি বা-হাতি অফ স্পিনটাও করতে জানতেন তিনি। অস্ট্রলিয়া ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্বও পালন করা লেহম্যান দেশটির হয়ে ৩৮.৯৬ গড়ে ৩০৭৮ রান তুলেছিলেন মাত্র ১১৭ ওয়ানডেতে। মিডেল অর্ডারে ব্যাটিং অনায়াসে করতে পারবেন তিনি।

  • ডেভিড মিলার (দক্ষিণ আফ্রিকা)

 

‘কিলার মিলার’ এমন তকমা রয়েছে যার তিনি ডেভিড মিলার। আন্তর্জাতিক অঙ্গন তো বটেই ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্ট গুলোতেও দক্ষিণ আফ্রিকান এই মারকুটে ব্যাটারকে দশ নম্বর জার্সিতে দেখা গিয়েছে বারংবার।

আফ্রিকান দেশটির হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩৭টি ওয়ানডে ও ৯৫টি টি-টোয়েন্টিতে অংশ নিয়েছেন মিলার। যথাক্রমে রান করেছেন ৩৩৬৭ ও ১৭৮৬। জাতীয় দল ও ফ্রাঞ্চাইজিতে তিনি সাধারণত ফিনিশার হিসেবে খেললেও এ একাদশেরর পাঁচ নম্বরে ব্যাট করবেন তিনি।

  • শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিং-এ বিশ্ব ক্রিকেটকে মুগ্ধ করেছিলেন শহীদ আফ্রিদি। তাঁর ওমন মারকাটারি ব্যাটিং তাঁকে ‘বুমবুম’ উপাধী পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছিল। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের আদ্যপান্ত আকড়ে রেখেছিলেন দশ নম্বর জার্সি।

মাত্র ৩৭ বলে শতক হাঁকানোর মতো এক অনন্য রেকর্ডের মালিক ছিলেন প্রায় ১৭ বছর। তিনি ব্যাটের সাথে হাতের কারুকাজে লেগস্পিনেও ছিলেন পারদর্শী। স্পিনে প্রতিপক্ষকে কাবু করা ছাড়াও তাঁর দায়িত্ব ব্যাটিং ইনিংসের শেষভাগে দ্রুততার সাথে রান সংগ্রহ করা।

  • খালেদ মাহমুদ পাইলট (বাংলাদেশ)

নিজের সময়ে বাংলাদেশ তো বটেই খালেদ মাহমুদ পাইলট ছিলেন উপমহাদেশের সেরা উইকেট রক্ষকদের একজন। উইকেটের পেছনের দায়িত্ব তাই তাঁর কাঁধেই তুলে দেওয়া শ্রেয়। রইলো বাকি তাঁর ব্যাটিং এর কথা।

১০ নম্বর জার্সি পরে তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন  ৪৪ টি টেস্ট ও ১২৬ টি ওয়ানডে। লোয়ার মিডেল অর্ডারে ব্যাটিং করা বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের নামের পাশে রয়েছে একটি শতকের সাথে দশটি অর্ধশতক।

  • শার্দুল ঠাকুর (ভারত)

শচীন টেন্ডুলকারের পর যদি ভারত ক্রিকেটে শার্দুল ঠাকুর নিয়েছিলেন জার্সি নম্বর দশ। তবে কিংবদন্তি শচীনের জার্সি নম্বরের ভার শার্দুল ঠাকুর ঠিক বহন করতে পারলেন না। সমালোচনা হলো পুরো ভারত জুড়েই।

অগ্যতা ভারত ক্রিকেট থেকে ১০ নম্বর জার্সি নিলো অবসর। শার্দুল একজন ভাল মানের বোলার এবং ভারতের তিন ফরম্যাটেই খেলেছেন তিনি। চার টেস্টে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১৪টি। ওয়ানডেতে ২২টি ও টি-টোয়েন্টিতে ৩১টি উইকেটের বিপরীতে যথাক্রমে ম্যাচ খেলেছেন ১৫ ও ২৪টি।

  • অ্যালান ডোনাল্ড (দক্ষিণ আফ্রিকা)

দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা পেস বোলার অ্যালেন ডোনাল্ড বিখ্যাত ছিলেন ‘সাদা বিদ্যুৎ’ নামে। টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি অ্যালেন তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে ১০ নম্বর জার্সি পরেই ক্রিকেট খেলেছেন।

৭২ টেস্টে ৩৩০ উইকেট নেওয়া অ্যালেন তাঁর স্কিল ও গতিতে ২৭২ বার পরাস্ত করেছেন প্রতিপক্ষকে ওয়ানডে ক্রিকেটে। সব ফরম্যাট মিলিয়ে তাঁর উইকেট সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০০।

  • পিটার সিডল (অস্ট্রেলিয়া)

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করা পিটার সিডলের জার্সি নম্বর ছিল ১০। বর্তমানে তিনি তাসমানিয়ার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিমগ্ন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৭ টেস্ট ও ২০টি টি-টোয়েন্টি খেলে সিডল উইকেট নিয়েছেন যথাক্রমে ২২১ ও ১৭টি।

  • শাহীন শাহ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

শহীদ আফ্রিদির পর পাকিস্তান জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সিটি রয়েছে এখন আরেক আফ্রিদির দখলে অর্থাৎ পাকিস্তানের বর্তমান পেস সেনসেশন শাহীন শা আফ্রিদির দখলে রয়ছে। টুইটারে ঘোষণা দিয়ে, রীতিমত ঘটা করে তিনি দশ নম্বর জার্সি নিজের দখলে।

এর আগে অবশ্য তিনি ৪০ নম্বরের জার্সি পরে খেলতেন ক্রিকেট। ২০২১ সালে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...