নজর এবার চোটগ্রস্থ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে

চোট নিয়ে ভালই বিপাকে রয়েছে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা দু’দলই। তবে প্রথম দুই ম্যাচে ব্রাজিল দাপুটে জয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়ে থাকায় কোচ তিতে কিছুটা নির্ভার। এই পর্বে প্রথম ম্যাচে পাচ্ছেন না নেইমার বা কোতিনহো কাউকেই। তাদের জায়গায় স্থান হতে পারে এভারটন রিভেইরা, রিচার্লিসন, রদ্রিগোদের। তবে আশার কথা ইন্জুরি কাটিয়ে দলে এসেছেন এলিসন বেকার ও গ্যাব্রিয়েল হেসুস। তবে দারুণ গোল স্কোরিং ফর্মে থাকা নেইমারের অভাব ঘরের মাঠে হয়ত নাও বুঝতে পারে সেলেকাওরা। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে নেইমারকে পাচ্ছেন কোচ।

আজ শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকান বিশ্বকাপ বাছাই এর তৃতীয় রাউন্ড। এ মাসে দুইটি করে ম্যাচ হবে এই অঞ্চলে।

ইতোমধ্যে প্রথম দুই রাউন্ড শেষে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে দূর্দান্ত শুরু করা  ব্রাজিল। সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এছাড়া একটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে কলম্বিয়া ও প্যারাগুয়ের পয়েন্ট ৪, ইকুয়েডর ও চিলি আছে ৩ পয়েন্ট নিয়ে। বরাবরের মতন এই অঞ্চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই কিন্তু গোটা ফুটবল বিশ্ব উপভোগ করবে বলে আশা করাই যায়। এই অঞ্চল থেকে কাতার বিশ্বকাপ ২০২০ এ সরাসরি যাবে ৪ টি দল, পঞ্চম দল কে অপেক্ষা করতে হবে ওশেনিয়া অঞ্চলে প্লে অফ ম্যাচের উপর।

এই ফিক্সচারে সবথেকে উপভোগ্য ম্যাচ হতে পারে ১৮ তারিখের উরুগুয়ে বনাম ব্রাজিল ম্যাচটি।

স্বাভাবিক ভাবেই সবচেয়ে বেশি চোখ থাকবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ওপর।

চোট নিয়ে ভালই বিপাকে রয়েছে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা দু’দলই। তবে প্রথম দুই ম্যাচে ব্রাজিল দাপুটে জয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়ে থাকায় কোচ তিতে কিছুটা নির্ভার। এই পর্বে প্রথম ম্যাচে পাচ্ছেন না নেইমার বা কোতিনহো কাউকেই। তাদের জায়গায় স্থান হতে পারে এভারটন রিভেইরা, রিচার্লিসন, রদ্রিগোদের। তবে আশার কথা ইন্জুরি কাটিয়ে দলে এসেছেন এলিসন বেকার ও গ্যাব্রিয়েল হেসুস। তবে দারুণ গোল স্কোরিং ফর্মে থাকা নেইমারের অভাব ঘরের মাঠে হয়ত নাও বুঝতে পারে সেলেকাওরা। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে নেইমারকে পাচ্ছেন কোচ।

ভেনিজুয়েলা তাদের প্রথম দু ম্যাচে হেরে শুরু করায় কিছুটা চাপের মুখে আছে। তারাও চাইবে ২০১৮-১৯ এর ফর্মটা আবার যেন ফিরে পায়।

ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে উরুগুয়ের মন্টিভিডিওতে। তারুণ্য ও অভিজ্ঞ দের মিশেলে গড়া উরুগুয়ের প্রধান সমস্যা অধারাবাহিকতা। প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে চিলিকে হারিয়ে শুভ সূচনা করা উরুগুয়ে পরের ম্যাচ ইকুয়েডরের মাঠে প্রথমার্ধ্বেই ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধ্বেও হজম করে আরও ২ গোল। খেলা শেষের ১০ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের দুই পেনাল্টি তে ৪-২ এ ম্যাচ শেষ হয়।

উরুগুয়ের এই মুহূর্তে মাঝ মাঠে বেশ কিছু কুশলী খেলোয়াড় থাকলেও কোচ অস্কার তাবারেজ এখনো আক্রমণ ভাগ ও রক্ষণে অভিজ্ঞদের উপর ভরসা করছেন। এই অঞ্চলে বাছাই পর্বের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার এই মুহূর্তে এককভাবে লুইস সুয়ারেজ। গত ফিক্সচারেও করেছেন ৩ গোল। তবে আরেক অভিজ্ঞ সদ্য প্যারিস থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেয়া কাভানির ফর্ম কিছুটা দুঃচিন্তারই কারণ তাদের জন্য। ডিয়েগো রসি, ডি লা ক্রুজ, ফ্রেদেরিকো ভালভার্দের, রদ্রিগো বেন্তাঞ্চুরদের মতন কুশলী তরুণ মাঝ মাঠ নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে খেলতে পারলে ব্রাজিলের সাথে একটি আকর্ষনীয় ম্যাচ উপহার দিতে পারবে ২ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৮ নভেম্বর।

লা বোম্বেরানায় প্রথম দিন স্বাগতিক আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে। ইতোমধ্যে প্যারাগুয়ের আর্জেন্টাইন কোচ এডুয়ার্ডো বেরিজ্জো মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনাতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রচুর সম্ভাবনাময়ী  এবং ভয়ংকর খেলোয়াড় থাকলেও তিনি বিশ্বাস করেন দল হিসেবে আর্জেন্টিনা ততটা শক্তিশালী নয়। তিনি এর সম্পূর্ণ ফায়দা উশুল করতে চান। প্রথম দুই ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট পাওয়া প্যারাগুয়ের আর্জেন্টিনার জন্য হুমকি তো হতে পারেই যদি এই দু দলের সাম্প্রতিক সাক্ষাতের ফলাফলগুলোর দিকে তাকান সেই বিষয়টিই আরও স্পষ্ট হবে।

২০১৯ কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বে সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেখানে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুরুতে গোল করে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধ্বে মেসির পেনাল্টিতে সমতায় আসে আর্জেন্টিনা, যদিও তার কিছুক্ষণ পরেই প্যারাগুয়ের পাওয়া পেনাল্টি রুখে দেন গোলকিপার ফ্র্যাংক আরমানি। সেদিনের সেই ড্র না হলে আর্জেন্টিনার শংকা ছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার। তার আগে ২০১৬ তে প্যারাগুয়ের মাঠ থেকে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ১-০ গোলে হেরে আসে সাদা আকাশীরা। এবং ২০১৫ তে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘরের মাঠেও জিততে পারে নি আর্জেন্টিনা।

তার উপরে আর্জেন্টিনা দল এবার ইনজুরি জর্জরিত। দলে যোগ দিতে পারেননি অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরো। গোড়ালির ব্যাথার কারণে মেসির খেলাও অনিশ্চিত। এই দলে যোগ দিয়েছেন ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার লটারো মার্টিনেজ ও আয়াক্স লেফট ব্যাক নিকোলাস ট্যাগ্লিয়াফিকো ( হ্যামস্ট্রিং)। ফিওরেন্টিনা থেকে কোভিড প্রোটোকল জনিত কারণে ছাড় পেতে দেরি হয়েছে নতুন সেন্টার ব্যাক লুকাস মার্টিনেজ কোয়ার্তার ।

দলের সাথে যোগ দেয়ার ১ দিন পরেই মাঠে নামা তার বেলাতেও অনিশ্চিত। রাইট ব্যাক সংকটে আর্জেন্টিনা ভুগছে পাবলো জাবালেতা অবসর নেবার পর থেকেই। সেই পজিশনে এই মুহূর্তে স্ক্যালোনির হাতে থাকা একমাত্র খেলোয়াড় গঞ্জালো মন্টিয়েলও পুরোপুরি ফিট নন। গত কোপা আমেরিকায় রাইট ব্যাক পজিশন সামলানো হুয়ান ফয়োথও আছেন লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে। কাজেই সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে চৌকস প্যারাগুয়ের সামনে আরেকবার কঠিন পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আর্জেন্টিনা ফ্যানদের জন্য আশার কথা অনেক দিন পরে দলে ফিরেছেন আয়াক্স্য ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ । ট্যাগ্লিয়াফিকো সম্পূর্ন সুস্থ না হলে তাকেও দেখা যেতে পারে মূল একাদশে। তবে আরেক ফ্যান ফেভারিট গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এর অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে যাচ্ছে সেটি প্রায় ই নিশ্চিত, কেননা গোলবারের নীচে এখনো রিভার প্লেটের ৩৪ বছর বয়সী ফ্রাংকো আরমানির উপরেই আস্থা রাখছেন কোচ স্ক্যালোনি।

আর্জেন্টিনা তাদের ২য় ম্যাচ খেলবে পেরুর বিপক্ষে। গত বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা পেরু মনে করে ব্রাজিলের সাথে তাদের বিপক্ষে রেফারি ইচ্ছাকৃত বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কাজেই তারা মুখিয়ে আছে এই ফিক্সচার থেকে কিছু পয়েন্ট আদায় করে নেবার। পেরু এই মাসে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে চিলির মাঠে।

২০১৫, ২০১৬ তে পরপর দু বার কোপা আমেরিকা জয়ী চিলি হঠাত করেই যেন কক্ষচ্যূত। খেলতে পারেনি ২০১৮ র বিশ্বকাপ ও। দলে অভিজ্ঞ এলেক্সিস সানচেজ ছাড়া নেই ভালো কোন স্কোরার। মিডফিল্ডে অভিজ্ঞদের স্থান দিতে গিয়ে কোচ রিয়নাল্ডো রুয়েদা তুলনামূলক বয়স্কদেরকেই খেলাচ্ছেন। গতবছর দল টি পরাজিত হয়েছে হন্ডুরাসের মতন দলের বিপক্ষেও। তবে চিলিয়ান দের চিরাচরিত যুদ্ধাংদেহী মানসিকতায় যে কোন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াতেই পারে।

২০২১ এর কোপা আমেরিকার আর্জেন্টিনার সাথে সহ আয়োজক কলম্বিয়াও আছে বেশ ভালো ফর্মে। দলের মূল স্তম্ভ হামেস রদ্রিগেজ তার পুরাতন গুরু আঞ্চেলত্তির অধীনে এভারটনে গিয়ে নতুন ভাবে নিজেকে মেলে ধরা শুরু করেছেন। স্কোরিং এবং প্লে মেকিং দুদিকেই ফর্মে আছেন এই মুহূর্তে। তবে এই মাসে তাদের ম্যচ দুটি সহজ হবে না। ঘরের মাঠে শনিবারে তারা মোকাবেলা করবে উরুগুয়ের। ১৮ নভেম্বর তাদের আতেথেয়তা দেবে ইকুয়েডর। ঘরের মাঠে এই মুহূর্তে আরেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের নাম ইকুয়েডর। বলিভিয়ার লাপাজের মতন না হলেও ইকুয়েডরের কিটো দক্ষিন আমেরিকার দ্বিতীয় কঠিনতম  জায়গা যেখানে সমূদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০০ মিটার উচ্চতায় খেলতে গিয়ে অন্য দেশের ফুটবলাররা ভালই পরীক্কার মুখে পড়েন। গত মাসে ইকুয়েডর বনাম উরুগুয়ে ম্যাচের ফলাফল ই তার প্রমাণ।

এ অঞ্চল থেকে এখনও কোন পয়েন্ট অর্জন করতে না পারা দুটি দল ভেনিজুয়েলা এবং বলিভিয়া। যদিও সময় গড়াবার সাথে সাথে কঠিনতর হতে থাকা, রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতির এই বাছাই পর্বে শেষ কোন ৪ টি দল যাবে তা আগে থেকে বলে দেয়া মুশকিলই। কাগজে কলমে অন্যতম হট ফেভারিট ব্রাজিলকে ২০০২ বিশ্বকাপ বাছাই এ এবং আর্জেন্টিনা কে ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রায় শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে নিজদের ও অন্যান্যদের ম্যাচের ফলাফলের উপরে।

সব মিলিয়ে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই ইন্টারন্যাশনাল ব্রেক ও চমকপ্রদ কিছু ফুটবল যুদ্ধ নিয়ে হাজির হবে এই আশা তাই করাই যায়।

আরও পড়ুন

Leave A Reply

Your email address will not be published.