কার্লো আনচেলত্তির কারণেই মিশন হেক্সা পূরণ সম্ভব হবে না ব্রাজিলের। শুধু সেলেসাওরাই নয়, ভুল কোচের কারণেই হয়তো ট্রফি ছাড়াই ফিরতে হবে ছয় দশক ধরে বিশ্বকাপের অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ডকে। আর শেষ বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও মাঠ ছাড়তে হতে পারে পর্তুগালের হাতে শিরোপা না দেখেই। কারণ, বিশ্বকাপ ফুটবলে চলে আসছে অলিখিত-অভিশপ্ত নিয়ম যার কারণে ট্রফি হাতে নিতে পারেননি কোনো বিদেশি কোচ।
ফুটবল ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, বিগত ২২টি আসরের প্রতিটিতেই বিশ্বজয়ী দলগুলোর ডাগআউটে ছিলেন একজন স্বদেশী কোচ। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের আলবার্তো সুপিসি থেকে শুরু করে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি, ইতিহাসে কোনো ব্যতিক্রম নেই। এই এক নিয়মই এবার বড় বড় পরাশক্তিদের বিশ্বজয়ের স্বপ্নকে এক ঝটকায় খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গত দুই দশক ধরে এক বুক হাহাকার নিয়ে খুঁজছে তাদের ষষ্ঠ শিরোপা। মারিও জাগালো বা লুইস ফিলিপ স্কলারির মতো ঘরের ছেলেদের হাত ধরেই এসেছে তাদের সোনালী অতীত। অথচ সাম্প্রতিক ব্যর্থতার গ্লানি মুছতে তারা হাত বাড়িয়েছিল ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তির দিকে, আর সেই কারণেই হয়তো অপেক্ষার দিন আরও বাড়তে যাচ্ছে নেইমার জুনিয়রদের জন্যে।

একই দ্বিধায় পুড়ছে ইংল্যান্ডও। ১৯৬৬ সালে স্যার আলফ রামসের হাত ধরে আসা একমাত্র বিশ্বকাপটি ছিল এক তাদের একমাত্র শিরোপা। ৬০ বছর ধরে বিশ্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার স্বপ্ন কেবল ভেঙেই গেছে ইংলিশদের। সেখানে টমাস টুখেলের ডাগআউটে থাকা যেন ইংল্যান্ডের অপেক্ষার প্রহর বাড়তে থাকারই গল্প বলে।
সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়তো অপেক্ষা করছে পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য। ক্যারিয়ারের শেষ গোধূলিতে এসে একটি সোনালী ট্রফির জন্য যখন সিআরসেভেনের মন ব্যাকুল, তখনই পর্তুগাল নিজেদের ভাগ্য সঁপে দিয়েছে স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্তিনিজের হাতে। সেই অভিশাপ যদি এবারও সত্যি হয়, তবে রোনালদোর এই অন্তিম লড়াইয়ের শেষটা হতে যাচ্ছে এক বেদনায় মোড়ানো।
দুয়ারে অপেক্ষা করছে আরেকটি বিশ্বকাপ। ব্রাজিল, ইংল্যান্ড কিংবা পর্তুগাল যখন নিজেদের রণকৌশল শানিয়ে নিচ্ছে শেষ সময়ে এসে, সেখানে বিদেশি কোচের এই অভিশাপের ফাঁদে পড়তে হয় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। নাকি এদেরই কারো হাত দিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচিত হবে তা জানা যাবে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজলে।











