কাউন্টির ইংল্যান্ড থেকে অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে!

কেন্ট অধ্যায়ের ফাঁকে আবার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও ডাক পান কলম্বো ক্যাপসে, আর সেখানেও ছন্দ ধরে রাখেন—ক্যান্ডি রয়্যালসের বিপক্ষে তিন উইকেট, গল গ্যালান্টসের বিপক্ষে দুই উইকেট, বিনুরা ফার্নান্দোর সঙ্গে মিলে এক ম্যাচে ভাগ করে নেন সাত উইকেট। দুই মহাদেশের দুই ভিন্ন কন্ডিশনে ধারাবাহিকতা—এটাই বলে দেয়, চোট কাটিয়ে ফেরা হাসান আসলে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত এক বোলার হয়ে উঠেছেন।

চোট যখন একজন ফাস্ট বোলারকে মাসের পর মাস মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখে, তখন ফেরাটা সবসময় সহজ হয় না। হাসান মাহমুদের জন্যও এই বছরের শুরুটা ছিল ঠিক তেমনই এক লড়াইয়ের গল্প—দীর্ঘদিনের চোট সামলে তিনি প্রথমে ফিরেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের জার্সিতে, নিজেকে প্রমাণ করার সেই চেনা পথ ধরে। কিন্তু আসল বদলটা এলো তারও পরে, ইংল্যান্ডের মাটিতে।

জুন মাসে কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান হাসান—কেন্টের ১৫৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি। ব্ল্যাকপুলে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই তিনি দেখিয়েছিলেন কেন তাঁকে নেওয়া হয়েছিল—দুই ইনিংস মিলিয়ে নয় উইকেট নিয়ে কেন্টকে এনে দেন ১৪০ রানের বড় জয়, হন ম্যাচসেরা। মাত্র দুই ম্যাচেই তুলে নেন ১২ উইকেট, যার মধ্যে ছিল ৬৯ রানে ৬ উইকেটের ক্যারিয়ার-সেরা পারফরম্যান্স। ইংলিশ কন্ডিশনের সুইং আর সিমে যেন নতুন করে নিজেকে চিনলেন এই পেসার—লাইন-লেংথে আরও নিয়ন্ত্রিত, বাউন্সারে আরও ধারালো।

কেন্ট অধ্যায়ের ফাঁকে আবার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও ডাক পান কলম্বো ক্যাপসে, আর সেখানেও ছন্দ ধরে রাখেন—ক্যান্ডি রয়্যালসের বিপক্ষে তিন উইকেট, গল গ্যালান্টসের বিপক্ষে দুই উইকেট, বিনুরা ফার্নান্দোর সঙ্গে মিলে এক ম্যাচে ভাগ করে নেন সাত উইকেট। দুই মহাদেশের দুই ভিন্ন কন্ডিশনে ধারাবাহিকতা—এটাই বলে দেয়, চোট কাটিয়ে ফেরা হাসান আসলে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত এক বোলার হয়ে উঠেছেন।

জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট দলে ফিরে আসেন এই কাউন্টি অভিজ্ঞতা সঙ্গী করেই, আর এখন অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তুতি ম্যাচেও দেখা যাচ্ছে সেই একই ধারাবাহিকতা—ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে জানান দিলেন, ডারউইনের বাউন্সি উইকেটেও তাঁর বলে সেই কেন্ট-অর্জিত ধার এতটুকু কমেনি। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের পেস আক্রমণে হাসান মাহমুদ তাই এখন নিছক আরেকজন বোলার নন, বরং এক নতুন অস্ত্র—যিনি কেন্টের সবুজ মাঠ থেকে শিখে এসেছেন কীভাবে বিদেশের কন্ডিশনে টিকে থাকতে হয়।

প্রশ্ন এখন একটাই—চোট-পরবর্তী এই রূপান্তরিত হাসান মাহমুদ কি পারবেন আসল টেস্টেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের সামনে একই ধার নিয়ে হাজির হতে?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link