বিশ্বকাপ দলে সুযোগ হবে তো নেইমারের?

২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে যখন সেলেসাওরা তাদের হেক্সা জয়ের স্বপ্নে বিভোর, তখন ফুটবল বিশ্বের অলক্ষ্যেই যেন এক মহাকাব্যিক নাটকের পটভূমি তৈরি হচ্ছে। ১৮ মে চূড়ান্ত দল ঘোষণার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে, সেই সাথে জাগছে একটাই প্রশ্ন, নেইমার কি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবেন? 

ব্রাজিলীয় ফুটবলের সমার্থক শব্দ যদি হয় ‘আবেগ’, তবে সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে গত এক দশক ধরে বিরাজমান একটাই নাম, আর সেটা হলো  নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে যখন সেলেসাওরা তাদের হেক্সা জয়ের স্বপ্নে বিভোর, তখন ফুটবল বিশ্বের অলক্ষ্যেই যেন এক মহাকাব্যিক নাটকের পটভূমি তৈরি হচ্ছে। ১৮ মে চূড়ান্ত দল ঘোষণার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে, সেই সাথে জাগছে একটাই প্রশ্ন, নেইমার কি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবেন? 

গত দুই বছর নেইমারের ফুটবল ক্যারিয়ার ছিল চোট আর অনিশ্চয়তায় ভরপুর। ২০২৩ সাল থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে দেখা যায়নি। আল হিলালের আঙিনা ছেড়ে প্রিয় ক্লাব সান্তোসে ফেরাটাও যেন ছিল শেকড়ের টানে নিজের হারানো ছন্দ খুঁজে পাওয়ার এক আর্তি।

৩৪ বছর বয়সে এসে নেইমারের সামনে এখন এক ‘ফাইনাল ড্যান্স’-এর হাতছানি। কিন্তু এই নৃত্য কি ৯০ মিনিটের ঝড় হবে, নাকি শেষ মুহূর্তের কোনো সিদ্ধান্তে বন্ধ হবে হিসাবের সব খাতা? ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডের কাণ্ডারি ক্যাসেমিরো বিষয়টিকে দেখছেন অন্য ভাবে। তার মতে, নেইমারের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানেই ফুটবলের সৌন্দর্যকে অপমান করা।

ক্যাসেমিরোর ভাষায়, ‘নেইমারকে নতুন করে আর কিছুই প্রমাণ করার নেই।’ দীর্ঘ দুই দশকের বন্ধুত্বের খাতিরে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নেইমারের অন্তর্ভুক্তি কোনো পদমর্যাদা বা স্ট্যাটাসের লড়াই নয়; বরং তা কেবলই তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। 

ইতালীয় কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তি যখন ২০২৫ সালে ব্রাজিলের দায়িত্ব নিলেন, নেইমার তখন চোটের জগতে বন্দি। ছয় দশক পর কোনো বিদেশি কোচের হাত ধরে ব্রাজিল যখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে, তখন আনচেলত্তির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই ‘নেইমার-ধাঁধা’। 

 ক্যাসেমিরো মনে করেন, কোচ যদি নেইমারকে বলেন যে তিনি প্রতি ম্যাচে হয়তো নিয়মিত সুযোগ পাবেন না, তবুও নেইমার সানন্দে রাজি হবেন। কারণ, নেইমার মাঠে নামেন আনন্দের জন্য। ক্যাসেমিরোর ভাষায়, ‘তার সাথে কেবল একটা খোলাখুলি আলোচনার প্রয়োজন। সে হয়তো ২০ বা ৩০ মিনিটের জন্য মাঠে আসবে, কিন্তু সেই সময়টুকুই হবে ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারক।’

নেইমার মানেই ড্রিবলিংয়ের সেই শৈল্পিক কারুকাজ, যা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে মুহূর্তেই তছনছ করে দেয়। ক্যাসেমিরোর কথায় উঠে এসেছে সেই চিরন্তন সত্য; নেইমার কখনোই কঠোর বা কর্তৃত্বপরায়ণ হতে চাননি, তিনি শুধু চেয়েছিলেন বল নিয়ে ফুটবল মাঠে শৈশবকে খুঁজে পেতে। অ্যানচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে নেইমারের এই পরিবর্তিত ভূমিকা হতে পারে ব্রাজিলের তুরুপের তাস। 

ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে নেইমারের থাকা না থাকা এখন কেবল ফিটনেসের সূক্ষ্ম সুতোর ওপর ঝুলে আছে। প্রতিভা যেখানে প্রশ্নাতীত, সেখানে লড়াইটা এখন শুধুই শরীরের সাথে মনের।

যদি সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নেইমার সেই দলে জায়গা করে নেন, তবে তা কেবল একটি ফুটবলীয় সিদ্ধান্ত হবে না; বরং তা হবে এক কিংবদন্তির বিদায়ী বেলায় বিশ্বজয়ের স্বপ্নে রাঙানো এক চূড়ান্ত মহাকাব্য। ফুটবল বিধাতা কি নেইমারের জন্য সেই শেষ মুহূর্তের জাদুকরী চিত্রনাট্যটি লিখে রেখেছেন? উত্তর বলে দেবে সময়। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link