স্টোকসদের নির্বাচন এখন এক অজির হাতে!

ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়া, ২২ গজের লড়াইয়ে এই দুই দেশ যে একে অন্যকে শত্রুসম জ্ঞান করে সেটা তো সকলেরই জানা। আর, সেই ইংল্যান্ডই এখন এক অস্ট্রেলিয়ানকে নির্বাচিত করছে নির্বাচক হিসেবে।

বাস্তবতা কখনো কখনো যেন হার মানায় গল্পকেও। আপাতদৃষ্টিতে যা সিনেমা ছাড়া আর কোথাও ঘটতে পারে বলে কেউ বিশ্বাস করবে না, এমন ঘটনাই এখন ঘটতে যাচ্ছে ক্রিকেটের মাঠে। ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়া, ২২ গজের লড়াইয়ে এই দুই দেশ যে একে অন্যকে শত্রুসম জ্ঞান করে সেটা তো সকলেরই জানা। আর, সেই ইংল্যান্ডই এখন এক অস্ট্রেলিয়ানকে নির্বাচিত করছে নির্বাচক হিসেবে।

ঠিকই শুনেছেন। ইংল্যান্ড খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের ভাগ্যবিধাতা হিসেবে এখন বেছে নেওয়া হচ্ছে একজন অস্ট্রেলিয়ানকেই! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর খবর অনুযায়ী, সাবেক অজি ক্রিকেটার মার্কাস নর্থ হতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) পরবর্তী নির্বাচক। যদিও ইসিবির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। 

মার্কাস নর্থ নামটা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে খুব একটা জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও, তার ঝুলিতে আছে ২১টি টেস্ট এবং ৫টি সেঞ্চুরির অভিজ্ঞতা। ২০০৯-২০১০ সালের সেই সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ছিলেন এক শান্ত অথচ কার্যকর সৈনিক। আজ সেই প্রাক্তন অজি যোদ্ধাই বেন স্টোকস, ব্রেন্ডন ম্যাককালামদের সাথে বসে ঠিক করবেন প্রতিপক্ষ বধের নীল নকশা। 

নর্থের জন্য অবশ্য ইংল্যান্ড নতুন কোনো জায়গা নয়। ডারহাম কাউন্টির সাথে তার সম্পর্ক বহুদিনের। বেন স্টোকসের ঘরের দল ডারহামের ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে ২০১৮ সাল থেকেই তিনি পর্দার আড়ালে কাজ করছেন। হয়তো সেই অভিজ্ঞতাই তাকে টেনে এনেছে জাতীয় দলের আঙিনায়।   

তবে এই নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার ঝড়ও কম নয়। সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন তো রীতিমতো রাগ ঝেড়েছেন নির্বাচক নিয়োগে বিলম্ব নিয়ে। এপ্রিলের মধ্যে যেখানে কাজ শুরু করার কথা ছিল, সেখানে জুনে নিউজিল্যান্ড সিরিজের দোরগোড়ায় এসে এই সিদ্ধান্তকে তিনি হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন। 

কাউন্টি ক্রিকেটের অবহেলা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই ইংল্যান্ডে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। স্টোকস-ম্যাককালাম জুটির ‘বাজবল’ জমানায় ঘরোয়া পারফর্মাররা ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। ইসিবি এখন সেই ভুল সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। মার্কাস নর্থ কি পারবেন সেই ভাঙা সম্পর্ককে নতুন করে তৈরি করতে?

নিজের দেশের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মাথায় নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের এক নতুন ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ে যারা শত্রু, মাঠের বাইরের মন্ত্রণাকক্ষে তারাই এখন পরম মিত্র। ৪ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেই হয়তো দেখা যাবে এই অজি মস্তিস্কের প্রথম ঝলক।  

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link