ক্রিকেট ভারতের কাছে কেবল একটি খেলা নয়, এ এক আবেগের নাম। আর সেই আবেগের সবচেয়ে ঝকঝকে অধ্যায় হলো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। কিন্তু ২০২৬ সালের আইপিএল যেন এক অন্যরকম সংঘাতের সাক্ষী হয়ে থাকছে, যেখানে মাঠের লড়াইকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে মাঠের বাইরের বিশৃঙ্খলা। গ্ল্যামারের আলোর ঝলকানিতে কোথাও কি তবে শৃঙ্খলার বাতিটি টিমটিম করে জ্বলছে?
এবারের আসরে বিতর্কের মেঘ জমেছে রাজস্থান রয়্যালসকে ঘিরে। একদিকে দলের মিডিয়া ম্যানেজার রোমি ভিন্ডারের ডাগআউটে বসে মুঠোফোন ব্যবহার, অন্যদিকে অধিনায়ক রিয়ান পরাগের ক্যামেরার সামনে ভ্যাপিং করার দৃশ্য; সব মিলিয়ে এক নেতিবাচক প্রচারের জোয়ার বইছে। অনেক সাবেক ক্রিকেটারদের মতে, রিয়ান পরাগের মতো তরুণদের এমন আচরণ উদীয়মান প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবনের অনাহুত প্রবেশ। হার্দিক পান্ডিয়া, আর্শদীপ সিং বা যশস্বী জয়সয়ালদের সাথে তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বান্ধবীদের সরব উপস্থিতি বিসিসিআইকে চিন্তায় ফেলেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে ম্যাচের অতি গোপনীয় তথ্য হাতবদল হতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অননুমোদিত ব্যক্তিদের খেলোয়াড়দের হোটেল রুমে যাতায়াত করতে দেখা গেছে, যা কি না অ্যান্টি-করাপশন প্রোটোকলের চরম লঙ্ঘন।

এই বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সোজাসাপ্টা ভাষায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘এবার আমরা নির্দিষ্ট কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং খেলোয়াড়দের আচরণে বেশ কিছু অসংগতি ও অনিয়ম লক্ষ্য করেছি। তাই বিসিসিআই এবং আইপিএল একটি নির্দেশিকা তৈরি করছে।’
সাইকিয়া আরও বলেন, ‘কিছু অননুমোদিত লোক হোটেলে খেলোয়াড় বা দলের কর্মকর্তাদের রুমে আসছেন, যা আমাদের দুর্নীতিবিরোধী প্রটোকলের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমরা দেখেছি নির্দিষ্ট কিছু দলের মালিক এবং কর্মকর্তারা এমন সব জায়গায় খেলোয়াড়দের সাথে মেলামেশা করছেন যেখানে তা অনুমোদিত নয়।’ এই বিষয়ে যে বোর্ড কঠোর হতে পারে সেটাও তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।’
আইপিএল যেন এক রঙিন মঞ্চ। ক্রিকেটের এই রঙিন মঞ্চে শৃঙ্খলা যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে না পড়ে, বিসিসিআই-এর এই কড়া অবস্থান তারই ইঙ্গিত। বাইশ গজের লড়াই যেন শুধু ব্যাটে-বলেই সীমাবদ্ধ থাকে, অন্দরমহলের বিতর্ক যেন খেলার পবিত্রতাকে কলঙ্কিত না করে, এটাই এখন কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের প্রত্যাশা।











