সময়ের বহমান নদী প্রবল স্রোত নিয়ে এগিয়ে যায়। দুই ধারের পাড় ভেঙে জেগে ওঠে নতুন চর। কিন্তু সেই নদীর কোল ঘেষে দাঁড়িয়ে আছে এক সফেদ পর্বত। রিয়াল মাদ্রিদ নামক সেই পর্বতের নেই কোন ক্ষয়। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায় প্রকৃতিতে নানা বদল এলেও, সেই শুভ্র পাহাড় চূড়া মাথা উঁচু আর নাক খাড়া করেই দাঁড়িয়ে রয় এক অবিশ্বাস্য দম্ভ নিয়ে।
গ্যালাক্টিকোস নামক এক হুঙ্কার দিয়ে ওঠে স্পেনের রাজধানী থেকে। ফুটবলের দুনিয়াতে একটা ভয়ের সঞ্চার ঘটে। তিরস্কার করে কেউ কেউ। অনেকে তো আবার দোষ খুঁজে বেড়ায় আতস কাঁচ হাতে। সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘোরে, আর লস ব্ল্যাঙ্কোসদের হারানোর ফন্দি আঁটে অনেকে। কেউ সফল হয়, কিন্তু বিফল হওয়ার সংখ্যাটাই অনেক।
দলের তারকা খেলোয়াড়রা বিদায় নেন, নিতে হয়। সবাই ভেবে নেয় যে এই একটা মোক্ষম সুযোগ। দুমড়ে-মুচড়ে ফেলতে হবে রিয়ালের দম্ভকে। কিন্তু সফেদ জার্সি গায়ে চাপানো মাত্রই যেন ধমনীতে দুর্বার গতিতে ছুটে বেড়ায় এক অদ্ভুত তেজ। পিছিয়ে পড়েও, ফিরে আসার অদম্য সাহস বুকের বা-পাশে মুকুটের ঠিক পেছনেই জ্বলতে থাকে আগ্নেয়গিরির মত।

কিন্তু তখনও চোখে-মুখে থাকে না কোন ক্লান্তি, ভয়ের লেশ মাত্র থাকে না। রেলিগেশনের থাকা দল মাদ্রিদের ঘরের মাঠে মাদ্রিদকে চোখ রাঙায়। মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা তখনও মুচকি হাসে। আন্তর্জাতিক বিরতি কাটিয়ে ফেরা দলটা নিজেদের গুছিয়ে নিতে একটু সময় নেয়। তাতেই যেন হাসির রোল পড়ে যায় ইউরোপের ফুটবল পাড়ায়।
কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের অপর নাম যে কামব্যাক মাদ্রিদ। তাবড় তাবড় সব ক্লাবের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে মুড়িমুরকির মত। অহংকার তো সফেদ জার্সিতেই করা মানায়। ব্যাজে থাকা মুকুটটাই তো শ্রেষ্ঠত্বের সেই অমর রুপকথার গল্প শোনায়।
সফলতার গল্প শোনে ঈর্ষায় মরে যায় কেউ কেউ। দম্ভের সমালোচনায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন হয় ঘটা করে। কিন্তু সাদা জার্সিতে লেপ্টে থাকা ধুলিকণা, শ্রমের ঘাম, আর বিধ্বস্ত হৃদয়ের রক্তক্ষরণের দাগ কেউ দেখে না। ওই অধ্যায় আড়ালে রেখে তাই নাক উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সফেদ পর্বত। রয়্যাল মাদ্রিদের অহংকারের জ্বলে পুড়ে খাক হোক গোটা বিশ্ব। তাতে মাদ্রিদের কি!











