চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল, থাকছেন রিয়াদ

সব চড়াই উতরাই পেরিয়ে বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল এখন প্রায় চূড়ান্ত। আজকালের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোয়াড ঘোষণা করবে নির্বাচকরা। এরপরই ভারতের বিমান ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে হাজির হবে টাইগাররা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে স্কোয়াড নিয়ে প্রশ্ন ছিল; দুই একটা পজিশনে একাধিক ক্রিকেটারকে যাচাই বাছাই করে দেখার অপেক্ষা ছিল। সেসব এখন শেষ, আলোচিত সাত নম্বর পজিশনের জন্য খুব সম্ভবত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই পজিশনে রিয়াদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সৌম্য সরকার, শামিম হোসেন পাটোয়ারি। কিন্তু এরা কেউই পারফর্ম করতে না পারায় অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের উপর আস্থা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

তবে একটা সংশয় থেকেই গিয়েছে, ১৫ জনের এই দলে ব্যাকআপ নাকি পঞ্চম পেসার – কে জায়গা পাবেন? লিটন ও তামিমের পাশে ব্যাকআপ ওপেনার খোঁজার কাজটা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। নাইম শেখ, রনি তালুকদারকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল সাম্প্রতিক সময়ে, তবে কেউই সন্তোষজনক পারফর্ম করতে পারেননি।

অবশ্য তরুণ তানজিদ হাসান তামিম বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও খানিকটা সম্ভাবনা দেখিয়েছেন বটে। তাই তৃতীয় ওপেনার নেয়া হলে তিনিই হয়তো পাবেন বিশ্বকাপের টিকিট। তবে ব্যাকআপ ওপেনারের দায়িত্ব ইনফর্ম নাজমুল হোসেন শান্তর কিংবা মেহেদি হাসান মিরাজের কাঁধে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা করাটও অস্বাভাবিক নয়।

সেক্ষেত্রে পঞ্চম পেসার হিসেবে তানজিম হাসান সাকিব প্রথম পছন্দ। এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন তিনি। তাই বিশ্বকাপেও তাঁর উপর বাজি ধরতে পারে টিম টাইগার্স।

ব্যাটারদের মাঝে তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে অটো চয়েজ ভাবা যায়। অলরাউন্ডার ক্যাটাগরিতে সাকিব আল হাসান এবং মেহেদি হাসান মিরাজ তো থাকছেনই। সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় শেখ মেহেদী ও নাসুম আহমেদকে দলে রাখতেই হবে।

পেসার হিসেবে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ আর মুস্তাফিজুর রহমান ইতোমধ্যে বাক্সপেটরা গুছিয়ে নিয়েছেন নিশ্চয়ই। সব মিলিয়ে এই ১৪ জন হতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্ন সারথি। কিন্তু বাকি একজন কে হবেন – ব্যাকআপ ওপেনার তানজিদ তামিম নাকি পঞ্চম পেসার তানজিম সাকিব, সেই উত্তর জানা এখনো বাকি।

যতটুকু শোনা গিয়েছে পাঁচ পেসার নিয়েই স্কোয়াড সাজিয়েছে নির্বাচকরা। লম্বা টুর্নামেন্টে পেসারদের ওয়ার্কলোডের কথা মাথায় রেখেই এমন পরিকল্পনা তাঁদের। আবার পনেরো জনের বাইরে ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন আরেক পেসার খালেদ আহমেদ, তাঁর সঙ্গে রাখা হতে পারে জুনিয়র তামিমকে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link