হোপের বিধ্বংসী ইনিংসে ভারতকে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

৩৫২ রানের পর্বতসম লক্ষ্য, প্রতিপক্ষের ইনিংসে রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলের ঝোড়ো ব্যাটিং - কোনো কিছুই যেন পর্যাপ্ত মনে হয়নি। সব সমীকরণকে একাই বদলে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ।

৩৫২ রানের পর্বতসম লক্ষ্য, প্রতিপক্ষের ইনিংসে রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলের ঝোড়ো ব্যাটিং – কোনো কিছুই যেন পর্যাপ্ত মনে হয়নি। সব সমীকরণকে একাই বদলে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। চণ্ডীগড়ে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচে অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিতে ক্যারেবিয়ানদের পাঁচ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় উপহার দিলেন হোপ। দশ বল বাকি থাকতেই ৩৫২ রানের বিশাল টার্গেট টপকে যায় সফরকারীরা।

সিরিজের শেষ ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল। শুরুতেই শুভমান গিল ও বিরাট কোহলির উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। তবে সেখান থেকে ইনিংসের হাল ধরেন রোহিত শর্মা ও রুতুরাজ গায়কোয়াড।

রোহিত শর্মা ৯২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল দশটি চার ও তিনটি ছক্কা। ইনিংসের শেষভাগে তাণ্ডব চালান লোকেশ রাহুল। মাত্র ৮৭ বলে অপরাজিত ১২৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে সাত উইকেটে ৩৫১ রানের বিশাল সংগ্রহের পৌঁছে দেন রাহুল।

৩৫২ রানের পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় পাওয়াটা অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু দিনটি ছিল কেবলই শাই হোপের। ইনিংসের শুরু থেকে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রানের গতি ধরে রাখেন তিনি। চণ্ডীগড়ের উইকেটে ভারতীয় বোলারদের প্রতিটি আক্রমণকেই অনায়াসে বাউন্ডারির ঠিকানা দেখান হোপ।

১৪৩ বলে ১৭টি চার ও তিনটি ছক্কায় ১৬২ রানের এক ধ্রুপদী মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন আমির জাঙ্গু এবং শেষদিকে কিমো পল। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে কুলদ্বীপ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ ও নামান ধীর একটি করে উইকেট পেলেও ক্যারিবীয় ব্যাটারদের রান বন্যা আটকাতে ব্যর্থ হন।

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ভারত আগেই ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিলেও, শেষ ম্যাচটি মনে রাখা হবে শাই হোপের এই একক আধিপত্যের জন্য। কঠিন পরিস্থিতিতে ঠাণ্ডা মাথার ম্যাচজয়ী ১৬২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অধিনায়কোচিত নেতৃত্বের সেরা উদাহরণ তুলে ধরলেন তিনি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link