তিন অভিষিক্তের অভূতপূর্ব দৃশ্য

এই চিত্রনাট্যের তিনজনই ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন মুহূর্ত সত্যিই বিরল।

ব্যাটার, বোলার কিংবা ফিল্ডার – তিনজনই অভিষিক্ত। চট্টগ্রামে এক ডিসমিসালে লেখা হয়ে গেল তিনজনের নাম। ক্রিকেট মাঝেমধ্যে এমন গল্প লেখে যা কোনো চিত্রনাট্যকারও কল্পনা করতে পারেন না।

চট্টগ্রামের বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ঘটে গেল এক অদ্ভুত সুন্দর মুহূর্ত। ১২.৩ ওভারে একটি সাধারণ উইকেটের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অসাধারণ ইতিহাস।

বাংলাদেশের নতুন মুখ আব্দুল গাফফার সাকলায়েন টি-েটোয়েন্টির অভিষেকেই দলের হাল ধরে অপরাজিত ছিলেন ১০ রানে। তখনই, অস্ট্রেলিয়ার অভিষিক্ত অলরাউন্ডার জোয়েল ডেভিস বল করলেন — লুপ করা ডেলিভারি, অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে। সাকলাইন পৌঁছে গেলেন বলের কাছে, ড্রাইভ মারার চেষ্টা করলেন, কিন্তু ঠিকমতো হাতে এলো না। বল উড়ে গেল লং-অফের দিকে।

সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন নিখিল চৌধুরী— অস্ট্রেলিয়ার আরেক অভিষিক্ত ক্রিকেটার। ডানদিকে দ্রুত সরে গেলেন, বলের নিচে নিজেকে একদম ঠিকঠাক রাখলেন, রশির কাছে গিয়েও বিন্দুমাত্র নার্ভাসনেস ছাড়াই ঠাণ্ডা মাথায় ক্যাচটা পকেটে পুরে নিলেন।

এই চিত্রনাট্যের তিনজনই ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন মুহূর্ত সত্যিই বিরল।

নেপালে সাকিব-মাহেদীর অম্লমধুর শুরু

একজনের শুরুটা হয়েছিল প্রায় বিদায়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে, অন্যজনের ব্যাটে জমেনি প্রত্যাশার রং। অথচ দিনের শেষে দুজনেরই নাম উঠল পারফরম্যান্সের খাতায়। শেখ মেহেদী হাসান ব্যাট হাতে ২১ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে হিমালয়ের দেশ কাঁপালেন, আর সাকিব আল হাসান বল হাতে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন একটি উইকেট। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের জার্সিতে বাংলাদেশের দুই অলরাউন্ডারের অভিষেকটা হলো এমনই! তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের এই প্রাপ্তি শেষ পর্যন্ত ম্লান হলো দলের পরাজয়ে। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে প্রতিপক্ষ সুদূর পশ্চিম রয়্যালস, জিতল ৬ উইকেটে।

Share via
Copy link