চট্টগ্রামের সেই ঈশান কিষাণ ফিরলেন লখনৌতে। অবিশ্বাস্য এক ব্যাটিং তাণ্ডব দেখালেন আফগানদের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ দলের জায়গাটা কি তবে পাঁকা করেই ফেলছেন?
২০২২ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ঈশান কিষাণ যা করেছিলেন, সেটা রেকর্ড বইয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। মাত্র ১২৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ক্রিস গেইলের রেকর্ড ভেঙে দিলেন, শেষ পর্যন্ত ১৩১ বলে ২১০ — ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি।
কিন্তু, এরপরই শুরু হয় উল্টো যাত্রা। সেই ইনিংসের এক বছরের মাথায় কেন্দ্রীয় চুক্তি হারান ঈশান। টানা দুই বছর জাতীয় দলের বাইরে কাটাতে হয় তাকে। রেকর্ড গড়া ব্যাটার হঠাৎ করেই সিলেক্টরদের পরিকল্পনার বাইরে চলে যান।

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অবশ্য থামেনি। গত বছর সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ওয়ানডে সিরিজে আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে তার প্রত্যাবর্তন।
লখনৌর একনা স্টেডিয়ামে বুধবার সেই প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখলেন। চার নম্বরে নেমে রশিদ খান, বিলাল সামি — কাউকেই ছাড় দিলেন না। মাত্র ৭১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন, শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে করলেন ১২৫। ১৪টি চার আর ৭টি ছয়ে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৮। আউট হলেন নানগিয়ালিয়া খারোতের বলে পুল শটে টপ এজ দিয়ে, বদলি ফিল্ডার ইকরাম আলিখিলের হাতে ক্যাচ।
ওয়ানডেতে সর্বশেষ যে দলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন সেটাও ছিল আফগানিস্তান, ২০২৩ বিশ্বকাপে। সেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রায় তিন বছর পর ফিরে এলেন সেঞ্চুরি নিয়ে। চট্টগ্রামের ডাবল সেঞ্চুরি থেকে লখনৌর এই সেঞ্চুরির মাঝে সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেছে। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় পার করে ঈশান কিষাণ জানান দিলেন, তিনি এখনও আছেন, তিনি আছেন বিশ্বকাপের দৌঁড়ে!












