২০০৬ সালের বার্লিন। বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ট্রফি তুলে ধরছেন ইতালির অধিনায়ক ফাবিও ক্যানাভারো। সেই বছরই তিনি জিতে নেন ব্যালন ডি’অর — ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ডিফেন্ডার হিসেবে, বেকেনবাওয়ার ও স্যামারের পর। পুরো টুর্নামেন্টে ইতালি মাত্র দুটি গোল খেয়েছিল, কোনোটাই ওপেন প্লে থেকে নয়।
ঠিক ২০ বছর পর সেই ক্যানাভারো আবার বিশ্বকাপে — তবে এবার কোচ হিসেবে, দল মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান, যারা এবারই প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখছে।
স্বাধীনতার ৩৪ বছর পর এই বিশ্বকাপ উজবেকিস্তানের কাছে নিছক একটি টুর্নামেন্ট নয়। বাছাই পর্বে ১৫ ম্যাচে মাত্র একটি হার ,দীর্ঘ অপেক্ষার পর অর্জিত এই যোগ্যতা পুরো জাতির কাছে উৎসবের উপলক্ষ।

বিদায়ী ম্যাচে তাশখন্দের জাতীয় স্টেডিয়ামে ৩০ হাজার দর্শকের ঢল সেই আবেগেরই প্রমাণ। দলে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ ও দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা এলদর শোমুরোদভ।
গ্রুপ কে-তে পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও কঙ্গোর মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়তে হবে। কাগজে-কলমে কঠিন, তবে ক্যানাভারো বলছেন ভিন্ন কথা — ‘এটা আমাদের প্রথম বিশ্বকাপ, আমাদের হারানোর কিছু নেই।’ ১৭ জুন মেক্সিকো সিটিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক অভিযান।
একদিকে বিশ্বজয়ী কোচের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে একটি জাতির বহু বছরের স্বপ্ন — এই দুইয়ে মিলিয়ে উজবেকিস্তানের গল্পটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।











