দশক সেরা ওয়ানডে একাদশ ও দুর্ভাগার দল!

স্কোয়াডে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন সাকিব আল হাসান। আইসিসির যাচাই বাছাইয়ে সেরা একাদশ গঠনের পরও এমন কিছু নাম আছে, দশক সেরা একাদশে যাদের না থাকাটা একরকম ধাক্কা হয়েই এসেছে।

আইসিসি ঘোষণা করেছে এই দশকের সেরা ওয়ানডে স্কোয়াড। স্কোয়াডে একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন সাকিব আল হাসান। আইসিসির যাচাই বাছাইয়ে সেরা একাদশ গঠনের পরও এমন কিছু নাম আছে, দশকসেরা একাদশে যাদের না থাকাটা একরকম ধাক্কা হয়েই এসেছে। সেরকম কিছু দুর্ভাগা ক্রিকেটারের গল্পই বলব আজকে।

  • বারব আজম (পাকিস্তান)

পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজম দিব্যি জায়গা করে নিতে পারতেন এই একাদশে। ২০১৫ সালে অভিষেকের পর থেকে তিনি আছেন দারুণ ফর্মে। আর কি নান্দনিক ব্যাটিং স্টাইল। ৭৭ টি টি ওয়ানডে খেলে তিনি করেছেন ৩৫৮০ রান। ব্যাটিং গড়টা অতিমানবীয় – ৫৫.৯৩, রীতিমত আকাশছোঁয়া!

এর মধ্যে সেঞ্চুরিই করেছেন ১২ টা, হাফ সেঞ্চুরি ১৬ টা। স্বয়ং ক্রিকেট বোদ্ধারা বলাবলিই করেন যে তার নাম চাইলে সাম্প্রতিক সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান মানে বিরাট কোহলি, কেন উইলিয়ামস, স্টিভেন স্মিথ ও জো রুটের সাথে উচ্চারিত হওয়া উচিৎ। কিন্তু, তাঁকে আইসিসি দশক সেরা ওয়ানডে একাদশে ঠাঁই দেয়নি।

  • রস টেইলর

কিউই একাদশে গত এক দশকে সবচাইতে নির্ভরযোগ্য নামটা খুব সম্ভবত রস টেইলর। শান্ত, স্থিতধী এই ব্যাটসম্যান গোটা দশক জুড়েই কিউই ক্রিকেটকে সার্ভিস দিয়ে চলেছেন নিরলসভাবে। শুধু একজন ক্রিকেটার হিসেবে নয়, নানা সময়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন জুনিয়র ক্রিকেটারদের অভিভাবক হিসেবেও।

সেই রস টেইলর গত এক দশকে নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ১৩৯টি ওয়ানডে ম্যাচ, রান করেছেন ৫৯৫০। শুধু তাই না, তাঁর খেলা ১৩৯ ম্যাচের ৭৮ টাতেই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। এটাই প্রমাণ করে, গত এক দশকে ওয়ানডে ক্রিকেটে ঠিক কতটা আইকনিক ছিলেন তিনি! আর তাকেই কিনা তালিকায় রাখেনি আইসিসি।

  • ইয়ন মরগ্যান

ওয়ানডে ক্রিকেটে মরগ্যানের যাত্রা শুরু হয়েছিল আয়ারল্যান্ডকে দিয়ে। ২০০৭ বিশ্বকাপে সুপারসিক্সে জায়গা করে নিয়ে তো বিশ্ববাসীকে একরকম চমকেই দিয়েছিল আয়ারল্যান্ড।

সেই মর্গান কিন্তু গত এক দশকে ইংল্যান্ডের হয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ড যে ওয়ানডে ক্রিকেটে লম্বা পরিকল্পনা হাতে নেয়, তার নেতা ছিলেন এই মর্গানই। আর তার ফল তো ২০১৯ বিশ্বকাপ তোলাতেই বোঝা যায় ।

বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক গত এক দশকে ১৮৭ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। ১৮৭ ম্যাচের মধ্যে ১০৫ টাতেই তিনি জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। এই একটা পরিসংখ্যানই যথেষ্ট মর্গানের প্রভাব দলে বোঝাতে। আর তিনিই কিনা দশকসেরা একাদশে বিবেচিত নন? দুর্ভাগ্যই বটে!

  • আদিল রশিদ

ইংল্যান্ডের হয়ে দশকসেরা একাদশে না থাকা আরেক দুর্ভাগা হলেন আদিল রশিদ। গোটা দশকেই তিনি ইংল্যান্ডের স্পিন ডিপার্টমেন্টে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন । নিজের দিনে হাস্যজ্বল এই স্পিনার ছিল ব্যাটসম্যানের জন্যে আতঙ্ক।

ক্যারিয়ারজুড়ে ইংল্যান্ডের হয়ে ১০৬ ওয়ানডে খেলতে নেমে পকেটে পুরেছেন ১৫৫ ওয়ানডে উইকেট। আধুনিক ক্রিকেটের মারমার কাটকাট এই খেলার যুগেও যার ইকোনমি রেট ৫.৬০! বোঝাই যাচ্ছে, ওয়ানডে ক্রিকেটের বোলিংটা আদিল রশিদের নখদর্পণে। আর তিনিই কিনা সুযোগ পেলেন না আইসিসির দশকসেরা একাদশে।

  • রবীন্দ্র জাদেজা

দশকসেরা একাদশে জাদেজার না থাকা নিয়ে অবশ্য ওপরের তিনজনের মত আলোচনা হয়নি, কিন্তু দশকসেরা একাদশে থাকার তালিকাতে একজন যোগ্য দাবিদার ছিল রবীন্দ্র জাদেজা।

এই দশকেই ভারতের জেতা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (২০১৩) তে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। গোটা ক্যারিয়ারে অলরাউন্ডার হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে সার্ভিস দিয়ে এসেছেন। ভারতের হয়ে খেলা ১৩৩ ওয়ানডে ম্যাচে জাদেজা রান করেছেন ১৮৩৬ রান, উইকেট নিয়েছেন ১৫৯ টি!

  • হাশিম আমলা

টেস্ট একাদশে না থাকার মত ওয়ানডে একাদশেও হাশিম আমলার না থাকাটা একটা চমক হয়েই এসেছে। নিজের দিনে আধুনিক ক্রিকেটের সবচাইতে সুন্দর এই ব্যাটসম্যান যখন দশকসেরা একাদশে থাকলেন না, ক্রিকেট ফ্যানেরা একটু চমকেই গেছে।

যদি আপনি রেকর্ড আর পরিসংখ্যান এর দিকে তাকান, হাশিম আমলা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। এই দশকে খেলা ১৪৪ ম্যাচে ৪৭.০২ গড়ে ৬২০৭ রান রয়েছে তাঁর নামের পাশে। নিজের খেলা ১৭৮ ম্যাচের ১০৬ টাতেই তার দল জিতেছে। হাশিম আমলা তাই দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন নিজেকে।

 

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...