মাইকেল ওলিসের ছবি ঝাপসা কেন?

মাইকেল ওলিসের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল দেখেছেন? সেখানে তাঁর ছবিগুলো দেখলে মনে হবে, আনকোরা এক খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো বড় মঞ্চে ফুটবল খেলছে। আর বাসার মুরব্বি গোছের কেউ টিভির সামনে বসে ওলিসের খেলার ছবিগুলো তুলেছে।

মাইকেল ওলিসের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল দেখেছেন? সেখানে তাঁর ছবিগুলো দেখলে মনে হবে, আনকোরা এক খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো বড় মঞ্চে ফুটবল খেলছে। আর বাসার মুরব্বি গোছের কেউ টিভির সামনে বসে ওলিসের খেলার ছবিগুলো তুলেছে। তারকা ফুটবলারের ছবি আমরা যেভাবে দেখি, যেভাবে আমাদের চোখধাঁধিয়ে যায়, তাঁর ছিটেফোঁটাও যে সেখানে নেই। এর নেপথ্যে আসলে কী?

কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সব ছবি মুছে ফেলেন ওলিসে। তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তাকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের গুঞ্জনের সঙ্গে হয়তো এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, বাস্তবতা ছিল একেবারেই অন্য রকম।

ওলিসের ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার ফ্লোরেন্স পার্নেট দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ম্যাচ ও অনুশীলনের বিশেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে আসছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওলিসে বরাবরই পার্নেটের তোলা ছবিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেননি এই ফটোগ্রাফার।

এরপরই অভিনব এক সিদ্ধান্ত নেন ওলিসে। পার্নেটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি সব পুরোনো ছবি সরিয়ে ফেলেন এবং ঘোষণা না দিয়েই নতুন এক বার্তা দেন নিজের কাজের মাধ্যমে। এরপর থেকে তাঁর ইনস্টাগ্রামে যে ছবিগুলো প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলো দেশে বসে টেলিভিশনের পর্দা থেকে পার্নেটের তোলা। ফলে ছবিগুলোর মান পেশাদার এজেন্সির ছবির মতো নিখুঁত না হলেও ওটাই হয়ে ওঠে নীরব প্রতিবাদ।

শুধু পার্নেট নয়, এমন আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গেও এমন হয়েছে। যাদেরকে ভিসা দেওয়া হয়নি। ঘানার থমাস পার্টি ভিসা-জটিলতার কারণে খেলতে পারেননি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। ফিফার নির্বাচিত সোমালীয় রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকেও ভিসা-সংক্রান্ত ঝামেলায় ভুগতে হয়েছে। পরে অবশ্য বিষয়টি বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে সমাধান করে। এছাড়াও অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-জটিলতা, এমনকি হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

এই ব্যাপারগুলো একত্র করলে একটি জিনিসই দাঁড়ায়। ফুটবল নেশন বাদে বাকিরা ঠিকমতো সুযোগ-সুবিধা পায়নি। প্রশ্নটা চলেই আসে, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো এত বড় ইভেন্ট আয়োজন করতে কি যুক্তরাষ্ট্র আসলেই সক্ষম? সব ঘটনা বিশ্লেষণ করলে হয়তো উত্তরটা ‘না’ আসবে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link