ক্ষুদে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সমগ্র

সেঞ্চুরির পর উইকেট বিলিয়ে দিলে আসাটা বরাবরই দেখা যায়। আর তিন অংকের ফিগারে পৌঁছে যাওয়ার পর মনোসংযোগ হারিয়ে আউট হওয়াটাকে দোষের পর্যায়ে দেখা হয় না। তাই বলা যায়, সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করার কাজটা মোটেও সহজ নয়। এর জন্য দরকার প্রচণ্ড মনোযোগ ও মানসিক দৃঢ়তা।

টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্য সবচেয়ে অর্জন কি? অবশ্যই ডাবল সেঞ্চুরি করা। বড় পরিসরের ক্রিকেটে একজন ব্যাটসম্যানের ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারাটাকেই তাঁর চূড়ান্ত সামর্থ্যের প্রমাণ ধরা যেতে পারে।

সেঞ্চুরির পর উইকেট বিলিয়ে দিলে আসাটা বরাবরই দেখা যায়। আর তিন অংকের ফিগারে পৌঁছে যাওয়ার পর মনোসংযোগ হারিয়ে আউট হওয়াটাকে দোষের পর্যায়ে দেখা হয় না। তাই বলা যায়, সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করার কাজটা মোটেও সহজ নয়। এর জন্য দরকার প্রচণ্ড মনোযোগ ও মানসিক দৃঢ়তা।

তরুণ বয়সেই কেউ কেউ এই মাইলফলকে পৌঁছে নিজেদের টেস্ট দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছেন। তাঁদের সাফল্যে ক্রিকেট বিশ্বও চমকে উঠেছে। সবচেয়ে কম বয়সে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক ছোঁয়া ব্যাটসম্যানদের নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • জাভেদ মিয়াঁদাদ (পাকিস্তান): ১৯ বছর ১৪০ দিন

জাভেদ মিয়াঁদাদ তখনও ‘বড়ে মিয়া’ হননি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৭৬ সালে করাচিতে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছান। মিঁয়াদাদের ২০৬ আর মাজিদ খানের ১১২ রানের ওপর ভর করে পাকিস্তান নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নয় উইকেটে ৫৬৫ রান করে। মিয়াঁদাদই টেস্টের সর্বকনিষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরিয়ান।

জবাবে, সফরকারীরা ৪৬৮ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান পাঁচ উইকেটে ২৯০ রান করে। নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৩৮৮ রানের লক্ষ্য দেয়। এবার সর্বোচ্চ ইনিংস মিয়াঁদাদের। তিনি করেন ৮৫ রান। শেষ অবধি ম্যাচটা ড্র হয়। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে সাত উইকেট হারিয়ে করে ২৬২ রান।

  • জর্জ হেডলি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ): ২০ বছর ৩০৮ দিন

দ্য ব্ল্যাক ব্র্যাডম্যান খ্যাত জর্জ হেডলির প্রথ ডাবল সেঞ্চুরি ছিল ১৯৩০ সালে, কিংস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে। প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৮৪৯ রানের পাহাড় গড়ে অ্যান্ডি স্যান্ড্যামের ট্রিপল সেঞ্চুরি আর লেস অ্যামেসের সেঞ্চুরিতে।

জবাবে প্রথম ইনিংসে করে মাত্র ২৮৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে নয় উইকেট হারিয়ে ২৭২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে ইংলিশরা। উইন্ডিজের সামনে ৮৩৬ রান তাড়া করার অসম্ভব এক লক্ষ্য দাঁড়ায়। সেখান থেকে ড্র করেছিল ক্যারিবিয়ানরা। কারণ, জর্জ হেডলি ম্যাচ বাঁচানো ২২৩ রান করেন। অন্যদিকে অধিনায়ক কার্ল নানেস ৯২ রান করেন।

  • বিনোদ কাম্বলি (ভারত): ২১ বছর ৩২ দিন

তিনি ভারতের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরিয়ান ও বিশ্বের ইতিহাসেরই অন্যতম বড় আক্ষেপ। কারণ দারুণ সম্ভাবনাময় হওয়ার পরও তিনি নিজের অবহেলায় ক্যারিয়ার লম্বা করতে পারেননি। ১৯৯৩ সালে ইংল্যান্ডের ভারত সফরের তৃতীয় টেস্ট হয়েছিল মুম্বাইয়ে। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ৩৪৭ রান করে। গ্রায়েম হিক করেন ১৭৮ রান। কপিল দেব নেন তিন উইকেট।

জবাবে ভারত ৫৯১ রানের পাহাড় গড়ে। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে ২২৪ রানের ইনিংস খেলেন কাম্বলি।
পরে ২২৯ রানে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হলে ইনিংস ব্যবধানে হারতে বাধ্য হয় ইংলিশরা। বল হাতে এবার নায়ক হন লেগ স্পিনার অনিল কুম্বলে।

  • গ্যারি সোবার্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ): ২১ বছর ২১৩ দিন

সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সোবার্স তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংসটি খেলেন ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটাকেই তিনি ট্রিপলে রূপ দেন।

পাকিস্তানকে সেবার প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রানে আটকে রাখে উইন্ডিজ দল। জবাবে ক্যারিবিয়ানরা তিন উইকেটে ৭৯০ রানের পাহাড় গড়ে। সৌজন্যে সোবার্স। তিনি ৩৬৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন। কনর‌্যাড হান্টে ২৬০ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৮ রানে অলআউট হওয়া পাকিস্তান হারে ইনিংস ও ১৭৪ রানের বিরাট ব্যবধানে।

  • গ্রায়েম স্মিথ (দক্ষিণ আফ্রিকা): ২১ বছর ২৫৯ দিন

গ্রায়েম স্মিথের সেই রুদ্রমূর্তির শিকার হয়েছিল বাংলাদেশ। সেটা ২০০২ সাল, ইস্ট লন্ডনে সিরিজের প্রথম টেস্টেই ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি পান গ্রায়েম স্মিথ। প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা চার উইকেটে ৫২৯ রান করে। স্মিথ ২০০ ও গ্যারি কার্স্টেন ১৫০ রান করে।

বাংলাদেশ দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৭০ ও ২৫২ রান করে। হারে ইনিংস ও ১০৭ রানের ব্যবধানে। সেবার আল শাহরিয়ার রোকন তাঁর ক্যারিয়ার সেরা ৭১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...