আঠারাে বছর বয়সেই অহরহ বিরাট দু:সাহসেরা দেয় যে উঁকি

এই ম্যাচে চেলসির পাঁচজন সেন্টার-ব্যাক ইনজুরিতে ছিলেন বাইরে। ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আরও কয়েকজনকে। মূল স্ট্রাইকার ও প্লেমেকারও অনুপস্থিত ছিলেন — এমন পরিস্থিতিতে শীর্ষস্থানীয় লিভারপুলের বিপক্ষে জয়ের কৃতিত্ব আরও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ, লন্ডন — সব প্রতিকূলতাকে জয় করে চেলসি যেন সিনেমার দৃশ্যকেই বাস্তবে রূপ দিল। ইনজুরিতে জর্জরিত দল, কোচের লাল কার্ড, শেষ মুহূর্তের ড্রামা — আর সেই মুহূর্তে ১৮ বছর বয়সী উইলিয়ান এস্তেভাওয়ের জয়সূচক গোল। ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে উত্তেজনা, গ্যালারিতে ঝড়, আর লিভারপুলের স্বপ্নভঙ্গ।

স্টপেজ টাইমের পঞ্চম মিনিটে এক কিশোর ব্রাজিলিয়ানের গোলে লিভারপুলকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে চেলসি। অ্যাবসলিউট সিনেমায় ভাসল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের নীল স্বর্গ। ১৮ বছর ১৬৩ দিন বয়সী এস্তেভাও হয়ে গেছেন প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়, যিনি ম্যাচজয়ী গোল করেছেন।

চেলসির হয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে মোইসেস কাইসেডো দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে লিড এনে দেন। এতে করে কাইসেডো এখন ক্লাবের হয়ে চলতি মৌসুমে যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা। একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হয়েও তিনি শেষ ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে তিনটি গোল করেছেন।

লিভারপুলের বিপক্ষে কাইসেডোর পরিসংখ্যান ছিল নজরকাড়া। পাঁচটি ডুয়েল জিতেছেন, পাঁচবার পজেশন পুনরুদ্ধার, চারটি ট্যাকল, দুটি শট অন টার্গেট এবং একটি গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুল সমতা ফেরায় কোডি গাকপোর গোলে। শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের মিস যেন লিভারপুলকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু ৯৫তম মিনিটের সেই গোল করে নায়ক বনে যান তরুণ এস্তেভাও।

নিচু ক্রসের বলটিতে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে পান এস্তেভাও। গোলের সঙ্গে সঙ্গেই স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ যেন বিস্ফোরিত হয় উল্লাসে। সতীর্থরা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেন তরুণ নায়ককে—যিনি এক নিমিষেই বদলে দিয়েছিল ম্যাচের ফলাফল, আর হয়তো নিজের ক্যারিয়ারের মোড়ও ঘুড়িয়ে ফেলেছেন।

চেলসির তুখোড় জয়ে থমকে গেছে লিভারপুলের শীর্ষে ফেরার স্বপ্ন। টানা তৃতীয় পরাজয়ের ফলে শীর্ষস্থান হারিয়ে আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাচ্ছে লিভারপুল। লিভারপুলের এই হারের আগে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে শীর্ষে এখন আর্সেনাল।

ব্রাজিলের পালমেইরাস থেকে গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে যোগ দেওয়া এস্তেভাওকে নিয়ে চেলসি সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিলই আকাশচুম্বী। অবশেষে লিভারপুলের বিপক্ষে নাটকীয় এক রাতে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন এই কিশোর ফরোয়ার্ড।

এই ম্যাচে চেলসির পাঁচজন সেন্টার-ব্যাক ইনজুরিতে ছিলেন বাইরে। ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আরও কয়েকজনকে।
মূল স্ট্রাইকার ও প্লেমেকারও অনুপস্থিত ছিলেন — এমন পরিস্থিতিতে শীর্ষস্থানীয় লিভারপুলের বিপক্ষে জয়ের কৃতিত্ব আরও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৯৫তম মিনিটে এস্তেভাওয়ের গোলের পর কোচ এনজো মারেস্কা দৌড়ে চলে যান টাচলাইন ধরে — খাঁটি উচ্ছ্বাসে! কিন্তু রেফারি দেখান লাল কার্ড। তিনি হার মানেননি, দলকেও মানতে দেননি।

চেলসি এখন টানা পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ হোম ম্যাচে অপরাজিত রইল লিভারপুলের বিপক্ষে। সর্বশেষ এই রেকর্ড দলটির ছিল দুই দশক আগে। নতুন এই অধ্যায় লেখার পেছনে কেন্দ্রীয় চরিত্র এক তরুণ—উইলিয়ান এস্তেভাও, চেলসির ভবিষ্যতের আশা।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link