আরব আমিরাতের গরমেও তাসকিন বনে গেছেন ‘বেঞ্চওয়ার্মার’

এবারের পুরো আসর জুড়ে তাসকিনকে বিষন্ন বদনে আইএল টি-টোয়েন্টির ডাগআউটে বসে থাকতে দেখলেও তাই অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। 

তিন ম্যাচ ধরে নিরব দর্শক হয়ে তাসকিন আহমেদ বসে আছেন ডাগআউটে। মুস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসানদের অভিষেক হয়ে গেছে আইএল টি-টোয়েন্টিতে। কিন্তু এখন তাসকিন অপেক্ষমান। দলের বেহাল দশাতেও চলতি বছরে অন্যতম সফল টি-টোয়েন্টি বোলারকে খেলাচ্ছে না শারজাহ ওয়ারিয়ার্স। কিন্তু কেন?

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৪টি উইকেট বাগিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ১৩ ম্যাচে তার বোলিং স্ট্রাইকরেট ছিল ১২.৩। বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন তাসকিন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজটি খেললে নিঃসন্দেহে তার উইকেটের ট্যালিতে সংখ্যাটা বাড়ত। কিন্তু সেই তাসকিন শারজাহ ওয়ারিয়ার্সের একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন না তিন ম্যাচ ধরে।

এর মূল কারণ দলটির অধিনায়ক টিম সাউদি। নিউজিল্যান্ডের এই পেসারের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ হৃষ্টপুষ্ট। নিজের স্বর্ণালী দিনগুলোতে তিনি তো রীতিমত ছিলেন দুর্ধর্ষ। সেই অভিজ্ঞতার কারণে তার হাতে উঠেছে অধিনায়কত্বের গুরু দায়িত্ব। আর অধিনায়ক ছাড়া নিশ্চয়ই মাঠে নামা সম্ভব নয়।

তাছাড়া তাসকিন এবং টিম সাউদি দুইজনই ডানহাতি পেস বোলার। অতএব ভিন্ন রোলের বোলার হলেও হয়ত তাসকিন প্রাধান্য পেতে পারতেন। অন্যদিকে গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে একপ্রকার কপালই পুড়েছে তাসকিনের। প্রোটিয়া অলরাউন্ডার ডোয়েইন প্রেটোরিয়াস বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমেছেন। এক্ষেত্রে ব্যাটিং সামর্থ্য প্রাধান্য পেয়েছে। ফলাফলও দলটি পেয়েছে হাতেনাতে। ১৭ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন প্রেটোরিয়াস।

অন্যদিকে টিম সাউদি অভিজ্ঞ হলেও, বল হাতে তার সময়টা মোটেও কাটছে না ভাল। তবুও তিনি দলের পরিকল্পনার বলি হয়ে বসে রয়েছেন সাইড বেঞ্চে। টিম কম্বিনেশন বনে গেছে সবচেয়ে বড় বাঁধা। এবারের পুরো আসর জুড়ে তাসকিনকে বিষন্ন বদনে আইএল টি-টোয়েন্টির ডাগআউটে বসে থাকতে দেখলেও তাই অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

যদিও পুরো মৌসুম ধরে বসে থাকার সুযোগ তাসকিনের হয়ত হবে না। কেননা ২৬ তারিখ থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। তার আগেই নিশ্চয়ই তিনি উড়াল দেবেন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এখন দেখার বিষয় আদোতে আইএল টি-টোয়েন্টিতে তাসকিনের কপাল খোলে কি-না।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link