২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০৬ খানা ছক্কা হাকিয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটাররা। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। সেই যাত্রার শুরুটা মূলত হয়েছিল গত বছরের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) থেকে। রেকর্ড গড়া ছক্কার মার দেখা গিয়েছিল বিপিএলের একাদশ আসরে।
ছক্কা হাঁকাতে পেশিশক্তির প্রয়োজন হয়, এ কথা সত্য। তবে তার থেকেও বেশি প্রয়োজনও অভ্যাস ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্বাস। বাংলাদেশ দল ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অঙ্গনে ছক্কা হাঁকানোর উৎসবে মেতে ওঠে। সেই ছক্কা উৎসবের সূত্রপাত ঘটেছিল ঘরের মাটিতে বিপিএলের মঞ্চে।
৭১৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সাত দলের ক্রিকেটাররা। চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে গত বিপিএলে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো প্রথম তিনজনই ছিলেন বাংলাদেশি। সবার উপরে ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ৩৬ ছক্কা নিয়ে। এরপরের স্থানে ছিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ, তার ছক্কা ছিল ৩০টি। তিন নম্বরে থাকা পারভেজ হোসেন ইমনের ছক্কার সংখ্যা ছিল ২৫টি।

এদের মধ্যে তামিম ও ইমন, এই দুইজনই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকিয়েছেন। তামিমের ৪১টি ছক্কার সাথে ইমন যুক্ত করেছেন আরও ৩৪টি। সুতরাং বিপিএলে ছক্কা হাঁকানোর অভ্যাসই পরবর্তীতে তামিম-ইমনদের সাহস যুগিয়েছে। কিন্তু দরজায় যখন কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ঠিক সেই মুহূর্তে শঙ্কা জেগেছে সেই অভ্যাসের ধারাবাহিকতা নিয়ে।
কেননা গতবার ৪৬টি বিপিএল ম্যাচে ৭১৫টি ছক্কার মার দেখেছেন দর্শকরা। অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি প্রায় ১৬টি ছক্কা উপভোগ করেছিলেন। কিন্তু এবারের আসরে দশ ম্যাচটি গড়িয়ে গেছে, এখন অবধি ছক্কা হয়েছে মোট ৮২টি। অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি প্রায় ৮টি করে ছক্কার মার দেখা যাচ্ছে ব্যাটারদের কাছ থেকে।
যদিও সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর তালিকায় শীর্ষ তিন স্থান বাংলাদেশি খেলোয়াড়রাই রেখেছেন দখলে। তবে সংখ্যাগুলো একটু দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে, যেহেতু বিপিএলের ঠিক পরেই মঞ্চস্থ হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ব্যাটাররা তাদের ছক্কা হাঁকানোর অভ্যাসটা কোনভাবে হারিয়ে ফেললে, বিশ্বাসও ঠুনকো হয়ে যাবে। তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে এখন আর বিপিএলে বাংলাদেশি ব্যাটাররা পিছিয়ে থাকেন না।

এর আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ছক্কা হাঁকানোর তালিকাতে স্রেফ বিদেশিদেরই আধিপত্য দেখা যেত। ২০১৯/২০ মৌসুমের বিপিএলে এখন অবধি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২১টি ছক্কা এসেছিল। সেবার টপ থ্রি সিক্স হিটারদের দুইজনই ছিলেন বিদেশি। সেই ধারায় অন্তত ব্যাঘাত ঘটাতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা- সেটাই বরং আপাতত ইতিবাচক।











