২০১৫ সালের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক নতুন ভোরের প্রতীক্ষা। সেই নবদিগন্তের মধ্যগগনে অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে ক্ষিপ্রতা আর হাতে ধরা উইলোর জাদুকরী স্পর্শে সে বছর তিনি নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন অনন্য এক উচ্চতায়।
২০১৫ বিশ্বকাপ ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার গল্প। অ্যাডিলেড থেকে হ্যামিল্টন – বিশ্বকাপের প্রতিটি ঘাস যেন সাক্ষী হয়ে আছে মুশফিকের অদম্য লড়াইয়ের। বিশেষ করে ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে তার লড়াকু ৮৯ রানের ইনিংসটি ছিল এক মহাকাব্যিক আখ্যান। সেদিন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শতকের জয়গানে মুশফিকের এই অবদান হয়তো কিছুটা আড়ালে পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু সেই ইনিংসটিই ছিল জয়ের অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর।
সেই বিশ্বকাপে ছয় ইনিংসে ব্যাট করে ৪৯.৭ গড়ে ২৯৮ রান করেন তিনি, যেখানে স্ট্রাইকরেট ছিল ১০০ এর উপরে। মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের পাওয়া তিন জয়ের প্রতিটিতেই তার ব্যাট থেকে এসেছিল কার্যকরী তিনটি অর্ধশতক।

সাফল্যের এই জয়রথ কেবল বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ঘরের মাটিতেও বাংলাদেশ তখন এক অপরাজেয় শক্তি। জিম্বাবুয়ে ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল যে দাপট দেখিয়েছিল, তার নেপথ্যে ব্যাট হাতে অনস্বীকার্য অবদান রেখেছেন মুশি।
বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে মুশফিক ছিলেন অনন্য। প্রথম ম্যাচেই খেলেছিলেন ৭৭ বলে ১০৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। পুরো সিরিজে তিন ইনিংসে ১১০ গড়ে ২২০ রান করেন তিনি। সব মিলিয়ে ২০১৫ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচ প্রতি ৫১.১৩ গড়ে ৭৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন মুশফিক।
সেই বছরটি ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক অবিস্মরণীয় বসন্ত। সেই বসন্তে তামিম ইকবালের রাজকীয় ব্যাটিং কিংবা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবিশ্বাস্য শতক সেই সাথে নব্য মুস্তাফিজ, তাসকিন, সৌম্যদের পারফরম্যান্সের যে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছিল, তার ভিড়ে মুশফিকের এই নীরব বিপ্লব হয়তো কিছুটা লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়ে যায়। কিন্তু ইতিহাসের আয়নায় তাকালে স্পষ্ট দেখা যায়, মাশরাফির সেই অদম্য সেনাদলের প্রতিটি বিজয়ের পেছনে নেপথ্য কারিগর হিসেবে নিঃশব্দে কাজ করে গেছেন মুশফিক।











