সুযোগ পেলেই যেমন খাঁচা ছেড়ে পাখি উড়ে যায় ঠিক তেমনই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) একটা ডাক শোনা মাত্রই ক্রিকেটাররা পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এর নেপথ্যের রহস্য কি? কোন শক্তির প্রভাবে খেলোয়াড়রা নাম লিখিয়েও পিএসএল ছেড়ে দেন? অনেকগুলো কারণ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম অর্থের ঝনঝনানি।
ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের জন্য পেশাদারিত্বের দিক থেকে পিএসএল আর আইপিএলের ব্যবধান স্পষ্ট। এই দুই লিগের মধ্যে পার্থক্য শুধু ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের দিক দিয়ে নয়। তার থেকেও বড় হয়ে উঠেছে ব্র্যান্ড ভ্যালু, বড় চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতির লড়াইও। এবছরও সেই প্রবণতা দৃঢ়ভাবে দেখা গেছে। পিএসএলে নাম লেখানো ক্রিকেটাররা আইপিএলের ডাক পাওয়া মাত্রই পিএসএলের সাথে সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। কারণ ওটাই, অর্থ ও সুযোগের অসামান্য ভিন্নতা।
উদাহরণস্বরূপ, দাসুন শানাকার নাম আসবে সবার আগে। এই ট্রেন্ডের সেরা উদাহরণ। পিএসএলে মাত্র ৭৫ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে বিক্রি হয়েছেন, ভারতীয় রুপিতে যা দাঁড়াচ্ছে ২৫ লাখ। আর আইপিএলে তাঁর ভিত্তি মূল্য দুই কোটি রুপি।

আবার মুস্তাফিজুর রহমানের উদাহরণ দেখলে অর্থেই পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রায় নয় কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছিলেন আইপিএলে। তবে ভাগ্যের হেরফেরে নাম কাটা যায় তাঁর। নতুন করে পিএসএলে নাম লেখান, দলও পান। তবে অর্থের পরিমাণটা ৬.৪৪ কোটি পাকিস্তানি রুপি। বাংলাদেশে যার পরিমাণ মাত্র ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আইপিএল খেললে যেটা হতে পারত ১২ কোটির উপরে। অর্থের এই আকাশ-পাতাল ব্যবধানই সব পরিষ্কার করে দেয়।
তাই তো ব্লেসিং মুজারাবানিরা সুযোগ পেয়েই দ্বিতীয়বার ভাবেননি হয়তো। তারা বুঝেছেন, দীর্ঘমেয়াদে ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে দৃঢ় অবস্থান গড়ে তোলার জন্য আইপিএল প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্ম। এখানে বলা যেতে পারে, পিএসএল কেবল পারফরম্যান্সের মঞ্চ, আর সেই পারফরম্যান্সকে বিপুল অর্থ এবং সারা বিশ্বের ক্রিকেট ভক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হলো আইপিএল।
সব মিলিয়ে, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া, স্পন্সরশিপ চুক্তি সবকিছুর কারণে ক্রিকেটারদের জন্য আইপিএল অনিবার্য লক্ষ্যবিন্দু। পিএসএলের থেকে বাজেট, নিলামের মূল্য এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু যেখানে দ্বিগুণ বা ততোধিক, সেখানে খেলোয়াড়দের আইপিএলে যাওয়াটা তাই অপ্রত্যাশিত নয়।

Share via:











