থিম সং যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ

ফুটবল স্রেফ একটি মাঠের লড়াই নয়, এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি মানুষের সম্মিলিত আবেগের এক মহাকাব্য। আর এই আবেগকে পূর্ণতা দিতে প্রতি চার বছর অন্তর জন্ম নেয় একেকটি নতুন সুর।

জাস্ট লাইক আ ওয়েভিং ফ্ল্যাগ – ফুটবল সত্যিই পতাকার লড়াই। আর সেই পতাকার লড়াই শুরুই হয় আবহ সঙ্গীত দিয়ে। আর বিশ্বকাপের থিম সঙ অনেকরকমই দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। কোনেটা আলোচিত, কোনোটা বা সমালোচিত।

যেমন, ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপের সেই মন্থর ব্যালাডটি ছিল প্রত্যাশার চেয়েও ম্লান। একটি বিশ্ব আসরের জয়োল্লাসের চেয়ে পেনাল্টি শুটআউটে ট্র্যাজিক পরাজয়ের আবহ সংগীত হিসেবেই সেটি বেশি মানানসই ছিল।

একই হাহাকার ছিল ২০১৪ সালে ব্রাজিলের ‘উই আর ওয়ান’ গানটিতেও। সাম্বার দেশে যে রঙের বিচ্ছুরণ আর প্রাণের স্পন্দন আমরা আশা করেছিলাম, পিটবুল আর জেনিফার লোপেজরা তা ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হন। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের থিম সং-এর ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। এর যান্ত্রিক আবহ শব্দগুলো গানটির স্বাভাবিক মাধুর্যকে ম্লান করে দিয়েছিল।

সাফল্য আর ব্যর্থতার দোলাচলে কিছু সুর ছিল মাঝারি মানের। কাতার বিশ্বকাপের সেই নারী শিল্পীদের সম্মিলিত প্রয়াসটি ভাবনায় আধুনিক হলেও সস্তা শব্দচয়নের কারণে তা শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন নিতে পারেনি। একইভাবে ১৯৯৪ সালে আমেরিকার গানটিতেও ফুটবলীয় উন্মাদনার চেয়ে দেশপ্রেমের চড়া সুরটিই ছিল প্রকট।

তবে এর বিপরীতে ১৯৮২ সালের স্পেনের সেই স্পন্দিত সুর কিংবা ১৯৯০ সালের ইতালির মেটাল ও ডিস্কোর অনবদ্য সংমিশ্রণ আজও অনেকের কানে অনুরণিত হয়। এমনকি ১৯৬৬ সালের ব্রিটিশ ব্যান্ড ঘরানার সেই পুরনো ধাঁচের সুরটিও তার নিজস্ব ক্লাসিক আবেদন ধরে রেখেছে।

তবে বিশ্বকাপ সংগীতের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট যদি কাউকে দিতে হয়, তবে ফিরে যেতে হবে রিকি মার্টিনের সেই কালজয়ী ‘দ্যা কাপ অফ লাইফ’-এ। ১৯৯৮ সালের সেই গানটি কেবল একটি সুর নয়, বরং এক প্রজন্মের উন্মাদনার চিরস্থায়ী ইশতেহার।

কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে আজও অবিসংবাদিত রাজত্ব ধরে রেখেছে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই জাদু। শাকিরার কণ্ঠে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ যেন দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে ফুটবলের এক বৈশ্বিক ভাষায় রূপ নিয়েছে।

যদিও সেই আসরে কে’নানের ‘ওয়েভিন ফ্ল্যাগ’ কোনো আনুষ্ঠানিক গান ছিল না, তবুও এই সুরগুলোই ফুটবল আর সঙ্গীতের এক অভিন্ন মায়াজাল তৈরি করেছিল। যা আজও অমলিন, আজও শুনলে প্রথমদিনের মতই নতুন বলে মনে হয়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link