সাদা পোশাকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ক্রিকেটে টেস্ট ফরম্যাট মানেই ছিল এক সময় পরাজয়ের দীর্ঘ মিছিল। মাঠেই যেন নামা হত ড্র এর উদ্দেশ্য নিয়ে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে টেস্ট ফরম্যাট মানেই ছিল এক সময় পরাজয়ের দীর্ঘ মিছিল। মাঠেই যেন নামা হত ড্র এর উদ্দেশ্য নিয়ে। শেষ কবে টেস্টে জয় এসেছে, সেটা মনে করতে গেলেও সাহায্য নিতে হত ক্রিকইনফোর।

স্বীয় দেশের ভক্তরাই বিরক্ত হয়ে বলতেন, আইসিসির উচিৎ বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস উঠিয়ে নেওয়া। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট আমূল বদলে গেছে। পরিসংখ্যানে চোখ বুলালে দেখা যায়, সাফল্যের গ্রাফ এখন ঊর্ধ্বমুখী।

২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর প্রথম ১৩টি জয় পেতে বাংলাদেশের সময় লেগেছিল দীর্ঘ ১৯ বছর। অথচ দলে ছিলেন সাকিব-তামিম-রিয়াদদের মতো মহীরুহরা। তাদের হাত ধরে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে স্মরণীয় কিছু জয় পেলেও জয়ের ধারাবাহিকতা ছিল অনিয়মিত। ১৯ বছরে এই ১৩টি জয় ছিল মূলত লড়াই করে টিকে থাকার গল্প।

২০১৯ সালের পর থেকে চিত্রটা দ্রুত বদলাতে শুরু করে। পরবর্তী ১৩টি টেস্ট জয় এসেছে মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ কেবল ঘরের মাঠেই নয়, বিদেশের মাটিতেও দাপট দেখাতে শুরু করেছে।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয় কিংবা পাকিস্তানের মাটিতে তাদের হোয়াইটওয়াশ করা। এসবই প্রমাণ করে টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত।

এর পিছনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান বাংলাদেশের অগ্নিঝড়া পেস বোলিং ইউনিটের। একটা সময় বাংলাদেশ মাত্রই ছিল স্পিন নির্ভরতা। কিন্তু এখন নাহিদ, তাসকিন, শরিফুল, এবাদত ও হাসান মাহমুদদের নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ যেকোনো কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দিতে সক্ষম।

পরিবর্তন এসেছে মানসিকতারও। ড্র করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এখন টাইগাররা জয়ের জন্য আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছে। মুশফিক-মুমিনুলদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজ বা নাজমুল হোসেন শান্তর মতো দায়িত্বশীল খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দলকে বদলে দিয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই উত্তরণ কেবল সংখ্যার বিচারে নয়, সাহসের বিচারেও বিশাল এক লাফ। যে গতিতে বাংলাদেশ এগোচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক বছর শুভ্র বসনে আরও বড় চমক উপহার দেবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এমনটাই প্রত্যাশা ভক্ত ও ক্রিকেট বোদ্ধাদের।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link