সাত বছরের অপেক্ষার পর স্ট্যানলেকের রূপকথার প্রত্যাবর্তন!

অনেকেই ভেবেছিলেন স্ট্যানলেকের ক্যারিয়ার বুঝি শেষ। কিন্তু তাসমানিয়ার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলে নিজেকে প্রমাণের নেশায় মত্ত ছিলেন তিনি।

আকাশচুম্বী উচ্চতা আর গতির কারণে একসময় বিশ্বক্রিকেটে নজর কেড়েছিলেন। কিন্তু ইনজুরির যেন সহ্য হয়নি তাঁর সৌভাগ্যকে। নিষ্ঠুর আঘাতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিটকে গিয়েছিলেন বিলি স্ট্যানলেক। সাত বছরের অপেক্ষার পর আবার অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পেলেন এই পেসার।

প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক কিংবা জশ হ্যাজলউডের মতো মহাতারকারা যখন আইপিএলে ব্যস্ত, তখনই পাকিস্তান সিরিজের জন্য নির্বাচকদের রাডারে ধরা দিলেন স্ট্যানলেক। ভাগ্যের ফেরে অনেক প্রতিভাকে হারিয়ে যেতে দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব, কিন্তু বিলি লড়াইটা ছাড়েননি। তার এই ফেরা যেন এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।

২০১৭ সালে যখন আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়, তখন হাতে ছিল মাত্র ৪টি লিস্ট-এ ম্যাচের অভিজ্ঞতা। অল্প সময়েই জায়গা হয়েছিল কেন্দ্রীয় চুক্তিতে, গায়ে দিয়েছিলেন আইপিএলের জার্সিও। কিন্তু ফর্মের পতন আর শরীরের ওপর ইনজুরির থাবায় হঠাৎই সব আলো নিভে যায় তার ক্যারিয়ার থেকে।

২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত টানা দুই বছর মাঠের ঘাসটুকু স্পর্শ করার সুযোগ পাননি তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন স্ট্যানলেকের ক্যারিয়ার বুঝি শেষ। কিন্তু তাসমানিয়ার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলে নিজেকে প্রমাণের নেশায় মত্ত ছিলেন তিনি।

চলতি বছরের শুরুতে কাঁধের হাড় ভেঙেও দমে যাননি ৩১ বছর বয়সী এই বোলার। সুস্থ হয়ে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন। এমনকি ঘরোয়া ওয়ানডে কাপে তাসমানিয়াকে ফাইনালে তুলতেও রেখেছেন বড় ভূমিকা, নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সাতটি উইকেট।

ক্রিকেটের বাইশ গজে গতিময় বাউন্সারে ব্যাটারদের কুপোকাত করতে স্ট্যানলেক এখন আবার প্রস্তুত। দীর্ঘ প্রায় সাতটি বছর ২২ গজের বাইরে থেকে দেখে যেতে হয়েছে সতীর্থদের লড়াই। এবার সময় এসেছে অস্ট্রেলিয়ার হলুদ জার্সিতে নিজের নামটা নতুন করে লিখে নেওয়ার।

বিলি স্ট্যানলেকের এই ফিরে আসা কেবল একটি দলের পরিবর্তন নয়, বরং এটি হার না মানা এক যোদ্ধার গল্প। ক্রিকেট অনুরাগীরা মুখিয়ে আছেন সেই দীর্ঘদেহী বোলারের রান-আপ দেখতে, যার প্রতিটি ডেলিভারি বয়ে আনবে এক প্রত্যাবর্তনের বার্তা। 

 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link