২২ গজের চেনা মঞ্চে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর দেখা মিলছিল না, ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতির আড়াল হতে হতে একরকম হারিয়েই যাচ্ছিলেন তিনি। মানুষ যখন একেবারে ভুলতে বসেছে তখন নিস্তব্ধতা ভেঙে হুট করেই বিদায়ের সানাই বাজালেন বিজয় শঙ্কর। ঘোষণা করলেন ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট আর আইপিএল থেকে নিজের অবসরের খবর।
মাত্র দশ বছর বয়সে ব্যাট বল হাতে তুলে নেওয়া শঙ্কর দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্রিকেটীয় জীবনের ইতি টেনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। বিদায়বেলায় কোনো আক্ষেপ নয়, বরং বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তাঁর সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জানিয়েছেন গভীর কৃতজ্ঞতা।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে মাঠ কাঁপানো শঙ্করকে ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা মনে রাখবেন তাঁর কিছু জাদুকরী মুহূর্তের জন্য। দেশের ৫০০তম ওয়ানডে ম্যাচে শেষ ওভারে বল হাতে ম্যাচ জেতানো কিংবা বিশ্বকাপে নিজের প্রথম বলেই উইকেট শিকার; এসব কীর্তি তাঁর ক্যারিয়ারকে করে রেখেছে আজীবন স্মরণীয়।

২০১৯ বিশ্বকাপের মাঝপথেই পায়ের আঙুলের চোট তাঁর জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে এক বড় ধাক্কা এনে দেয়। সেই চোটের পর তিনি আর কখনোই ভারতের মূল স্কোয়াডে ফিরতে পারেননি। ধীরে ধীরে নির্বাচকদের রাডার থেকে ছিটকে যান ঘরোয়া ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর হয়ে ত্রাতা বনে যাওয়া এই তারকা।
আইপিএলের মঞ্চে শঙ্কর প্রতিনিধিত্ব করেছেন চেন্নাই সুপার কিংস, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ , দিল্লি ক্যাপিটালস এবং গুজরাট টাইটান্সের মতো বড় বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির। তবে ২০২৬ সালের সর্বশেষ আইপিএল নিলামে অবিক্রীত থেকে যাওয়ার পর, ক্রিকেট থেকে তাঁর এই প্রস্থান যেন আরও বেশি তরান্বিত হয়।
ক্যারিয়ারজুড়ে পারফরম্যান্সের উত্থান-পতনের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অবাস্তব ঘৃণা ও ট্রলের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। তবে বিদায়বেলায় শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি সবসময় নেতিবাচকতাকে উপেক্ষা করে কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়াকেই বেছে নিয়েছেন।

১২ ওয়ানডে আর নয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ভারতের জার্সি গায়ে খেললেও সাদা পোশাকে কখনো অভিষেক হয়নি তাঁর। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিভার সাক্ষর রেখে গেছেন অনেক বছর ধরে। ভারতের মাঠে আর কখনো দেখা গেলেও বিদেশি কোনো লিগে আবার কখনো তাঁকে আবিষ্কার করতে পারেন ক্রিকেট ভক্তরা।










