শচীনের পাশে নাম থাকাই রুটের সৌভাগ্য

টেস্টে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হিসেবে নিজেকে অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে বিশ্বমঞ্চে তাঁর সামনে এখন কেবল একটাই পর্বতসম চূড়া। ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।

আধুনিক ক্রিকেটের আঙিনায় জো রুট এক ধ্রুবতারা। ব্যাট হাতে মাঠে নামলেই যিনি রানের ফল্গুধারা ছোটান। টেস্টে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হিসেবে নিজেকে অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে বিশ্বমঞ্চে তাঁর সামনে এখন কেবল একটাই পর্বতসম চূড়া। ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।

রুট কি পারবেন শচীনের সেই মহাকাব্যিক রানের রেকর্ড স্পর্শ করতে? এতকাল এই মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নটি সুকৌশলে এড়িয়ে গেলেও, অবশেষে নিজের নীরবতা ভাঙলেন রুট। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ এর মুখোমুখি হয়ে অকপটে স্বীকার করলেন তাঁর মনের গহীনের কথা।

শচীনের দীর্ঘস্থায়ী ও অতিমানবীয় ক্যারিয়ারের প্রতি রুটের মনে কাজ করে এক গভীর শ্রদ্ধাবোধ। তিনি বলেন, ‘আমার পৃথিবীতে আসার আগেই ভদ্রলোকের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে গিয়েছিল! যখন আমার নিজের টেস্ট অভিষেক হলো, সেই ম্যাচেও তিনি ২২ গজে বুক চিতিয়ে লড়ছিলেন!’

তিনি জানান, ক্রিকেট মাঠে শচীন টেন্ডুলকার যা অর্জন করেছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। এই কিংবদন্তির নামের পাশে কোনো আলোচনায় নিজের নাম আসাটাই তাঁর জন্য পরম পাওয়া।

শচীন টেস্ট ক্যারিয়ারের যবনিকা টেনেছিলেন ১৫,৯২১ রান নিয়ে। বর্তমানে রুটের নামের পাশে রয়েছে ১৩,৯৩৪ রানের কীর্তি। ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ফর্ম ও ফিটনেস এখনও তুখোড়।

শচীনের রেকর্ড ভাঙার সামর্থ্য রুটের আছে – তা নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে দ্বিধা নেই। তবে ভারতের এই সর্বকালের সেরা ব্যাটারকে টপকে যেতে যে হিমালয়সম একাগ্রতা প্রয়োজন, তা ভালো করেই জানেন এই ইংলিশ তারকা।

নিজের ব্যাটিং দর্শন নিয়ে রুট জানান, তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়তে পছন্দ করেন। তাঁর মূল লক্ষ্য থাকে ক্রিজে নিজেকে টেকনিক্যালি নিখুঁত রাখা। যাতে ম্যাচের মূল মুহূর্তে টেকনিকের জটিলতা ভুলে স্রেফ মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত খেলায় মন দেওয়া যায়। ক্রিজে দাঁড়ালে চারপাশের সবকিছু ভুলে রুট কেবল নিখাদ খেলাটাই উপভোগ করতে চান।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link