আইপিএলে চিরকুট বের করে সেলিব্রেশন করা নিয়ে ক্রিকেটপাড়ায় এখন সমালোচনা তুঙ্গে। সেলিব্রেশনের স্রোতে গা ভাসিয়েছেন লখনৌ পেসার আকাশ সিংও । সাবেক তারকারা একে ‘নাটক’ বলে খোঁচা দিলেও, এই কাগজের পেছনে লুকিয়ে আছে চার বছরের এক চরম অবহেলার গল্প। বছরের পর বছর ডাগআউটে বসে থাকা এক উপেক্ষিত পেসারের জমে থাকা জেদ আর রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প।
চলতি মৌসুমে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পান আকাশ। আর সুযোগ পেয়েই রুতুরাজ গাইকোয়াডকে আউট করে পকেট থেকে বের করেন এক চিরকুট। সেই চিরকুটে লেখা ছিল – ‘আক্কি অন ফায়ার – আকাশ ভালো করেই জানে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কীভাবে উইকেট নিতে হয়।’
সেদিন সাঞ্জু স্যামসন ও উরভিল প্যাটেলকেও কুপোকাত করেন তিনি। চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট। বল হাতে লখনৌয়ের জয়ের নায়ক বনে যান আকাশ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চার-চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে বেশিরভাগ সময় বেঞ্চে বসে থাকার যন্ত্রণা এই উদযাপনের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়েছে।

আকাশের ক্রিকেটীয় যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না। ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়া ভারতীয় স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন তিনি। সেই বছরই রাজস্থান রয়্যালস তাঁকে দলে নিলেও মাত্র একটি ম্যাচ খেলায়। ২০২৩ সালের নিলামে তিনি অবিক্রিত থেকে যান।
পরে মুকেশের ইনজুরির সুবাদে সিএসকেতে ডাক পান। ২০২৪-এ সানরাইজার্স ঘুরে ২০২৫ সালে লখনৌ সুপার জায়ান্টস তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকায় দলে ভেড়ায়। গত আসরেও মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলে বাকি সময় বেঞ্চে বসে সতীর্থদের পানি বহন করেছেন। অবশেষে ২০২৬ মৌসুমে দল তাঁকে ধরে রাখলে মেলে খেলার সুযোগ।
ভরতপুরের বাসিন্দা আকাশ যখন প্রথম ক্রিকেট একাডেমিতে আসেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মোটে ১৫। জয়পুর জেলা-অনুমোদিত টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচে আকাশ এক ইনিংসে একাই দশটি উইকেট শিকার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

আকাশের আজকের এই রূপের পেছনে ভারতের সাবেক পেসার আশিস নেহরার অবদান অনেক। গুজরাট টাইটান্সের এই প্রধান কোচ আকাশের সাথে নেটে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। ব্যাটারের মনস্তত্ত্ব পড়া থেকে শুরু করে ডেথ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কার দেওয়ার দীক্ষা আকাশ পেয়েছেন নেহরার কাছ থেকেই।
ডাগআউটের অবহেলা পেছনে ফেলে আকাশের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটাই হয়তো আইপিএলের আসল সৌন্দর্য। সমালোচকেরা একে নাটক বলতেই পারেন, কিন্তু ক্রিকেটের এই রঙ্গমঞ্চে এমন কিছু আবেগের চিরকুটই সাধারণ ঘরের ছেলেদের লাইমলাইটে নিয়ে আসে।











