মিরপুর বা সিলেটের গ্যালারিতে যখন লাল-সবুজের উৎসব, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের চোখে-মুখে তখন এক চরম শূন্যতা। এটি কেবল একটি সিরিজ হার নয়. এটি আসলে একটি ক্রিকেটীয় সাম্রাজ্যের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার গল্প।
২০২৪ সালের আগে যে দলটির বিরুদ্ধে পাকিস্তান টানা ১২টি টেস্ট জয়ের দম্ভ নিয়ে মাঠ কাঁপাত। সেই দলটির কাছেই টানা চার টেস্টে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তারা।
টেস্টে এই অন্ধকারের সূচনা ২০২২ সালের মার্চে, রাওয়ালপিন্ডিতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরাজয়ের ভয়ে এমন প্রাণহীন পিচ বানানো হয়েছিল যেখানে পাঁচ দিনে পড়েছিল মাত্র ১৪টি উইকেট! আইসিসিও একে লো রেটিং দেয়। শহীদ আফ্রিদি স্পষ্ট বলেছিলেন, মূল চিন্তা ছিল যেকোনো মূল্যে হার এড়ানো। এই ভীরু মানসিকতায় পাকিস্তান তার আক্রমণাত্মক ক্রিকেটীয় ডিএনএ হারিয়ে ফেলে।

পরবর্তীতে পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান রমিজ রাজা স্বীকার করেন, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ছাড়াই পিচ তৈরির পুরো নিয়ন্ত্রণ বাবর আজমের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
এই ব্যবস্থার ব্যর্থতায় ২০২২ সালে ইংল্যান্ড এসে প্রথমবার পাকিস্তানের মাটিতে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করে যায়। এরপর ২০২৪ ও ২০২৬ সালে বাংলাদেশের কাছে টানা সিরিজ হার সেই পতনেরই ধারাবাহিকতা।
মাঠের বাইরে, ২০১৯ সালে ঐতিহ্যবাহী বিভাগীয় ক্রিকেট বিলুপ্ত করায় প্রতিভার পাইপলাইন ধ্বংস হয়। ২০২২ সাল থেকে পাঁচ জন ভিন্ন কোচ এবং ঘন ঘন নির্বাচক পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে পঙ্গু করে দেয়। ফলে ২০২২ সাল থেকে ৩০ টেস্টের ১৫টিতেই হারে পাকিস্তান।

রক্ষণাত্মক পিচ ব্যর্থ হলে তারা স্পিন-ফাঁদ পাতে, যা উল্টো নিজেদের ফাস্ট বোলারদের অকার্যকর করে এবং ব্যাটারদের দুর্বলতা উন্মোচিত করে। ২০২৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা এই ফাঁদেই তাদের হারায়। মূলত, জয়ের চেয়ে পরাজয়কে বেশি ভয় পাওয়াই পাকিস্তানকে এই অন্তহীন শূন্যতায় এনে দাঁড় করিয়েছে।











