বিশ্বকাপের বুড়ো ঘোড়া যারা!

৪০ বছর কিংবা তার বেশি বয়সী ফুটবলারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটে। বিশ্বকাপের প্রায় একশ বছরের ইতিহাসে এক আসরে এত বয়স্ক ফুটবলার আগে কখনো দেখা যায়নি।

৪০ পেরোলেই ফুটবলারের ক্যারিয়ারে পড়ে যায় শেষের ঘণ্টা। তবে এবারের বিশ্বকাপে রাজত্ব করবেন ৪০ পেরোনো আট তারকা। এমন ঘটনা বিশ্বকাপের ইতিহাসেই বিরল, যেখানে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ বয়স, তাকেই কিনা পরাজিত করে সগৌরবে মাঠ প্রবীণ ফুটবলাররা।

ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে এবার দেখা যাবে অভিজ্ঞতার এক অভূতপূর্ব সমাবেশ। ৪০ বছর কিংবা তার বেশি বয়সী ফুটবলারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটে। বিশ্বকাপের প্রায় একশ বছরের ইতিহাসে এক আসরে এত বয়স্ক ফুটবলার আগে কখনো দেখা যায়নি।

আর সবচেয়ে অবাক করা তথ্য? ১৯৩০ থেকে ২০২২, আগের সব বিশ্বকাপ মিলিয়েও ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছিল মাত্র আটজন! অথচ এবার এক আসরেই সেই সংখ্যার সমান।

এই তালিকার শীর্ষে আছেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডন। বয়স ৪৩। অনেকেই যখন অবসরের গল্প লিখছেন, তখন গর্ডন বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। স্কটল্যান্ডের জার্সিতে মাঠে নামলেই তিনি হয়ে উঠবেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়।

তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন আরেকজন। নামটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সেও থামেননি তিনি। গোলের ক্ষুধা, শিরোপার স্বপ্ন আর ইতিহাসের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ, সবকিছু নিয়েই পর্তুগালকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। যে রেকর্ড খুব কম খেলোয়াড়ই ছুঁতে পেরেছেন।

শুধু রোনালদো নন, অভিজ্ঞতার এই মিছিলে আছেন মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিলের্মো ওচোয়া, ক্রোয়েশিয়ার শিল্পী লুকা মদরিচ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার এডিন জেকো, জার্মানির ম্যানুয়াল নয়্যার, কেপ ভার্দের জোসিমার দিয়াজ এবং উরুগুয়ের ফার্নান্দো মুসলেরা।

মজার ব্যাপার হলো, এই আটজনের মধ্যে পাঁচজনই গোলরক্ষক। বয়স যত বাড়ছে, যেন পোস্টের নিচে তাদের অভিজ্ঞতাও তত মূল্যবান হয়ে উঠছে। প্রতিক্রিয়া হয়তো আগের মতো ক্ষীপ্র নেই, কিন্তু ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা আর নেতৃত্বের গুণে তারা এখনো দলের অন্যতম ভরসা।

২০২৬ বিশ্বকাপ তাই শুধু তরুণ তারকাদের উত্থানের গল্প নয়। এটি অভিজ্ঞতারও জয়গান। এটি প্রমাণ করে, বয়স কখনো কখনো কেবল একটি সংখ্যা। আর স্বপ্ন? সেটি ২০ বছরেও যেমন জাগে, ৪০ বছরেও তেমনি জ্বলে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link