বিশ্বকাপে বাড়ছে মুসলিম দেশগুলোর উপস্থিতি

২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু একটি সম্প্রসারিত টুর্নামেন্ট নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের ফুটবল উপস্থিতির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়, যেখানে পরিচিত শক্তিগুলোর পাশাপাশি উঠে এসেছে নতুন অনেক মুখ এবং তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন বৈশ্বিক ফুটবল মানচিত্র।

এক সময় বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই সমর্থকদের মাঝে একটা মজার প্রবণতা দেখা যেত। নিজের পছন্দের দেশ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলে  অনেকেই এশিয়ার কোনো দলকে সাপোর্ট করত, আবার বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক সমর্থক আবেগের জায়গা থেকে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর পক্ষ নিতেন। তখন বিশ্বকাপে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব ছিল খুবই সীমিত, হাতে গোনা কয়েকটি দেশই নিয়মিত মূল পর্বে খেলত, ফলে সেই দলগুলোকে ঘিরে আলাদা এক ধরনের আবেগ কাজ করত সমর্থকদের মাঝে।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এসে মুসলিম দেশগুলোর উপস্থিতি পৌঁছে গেছে রেকর্ড উচ্চতায়।  এবার মোট ৪৮ দলের মধ্যে ১৩টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ জায়গা করে নিয়েছে, যা টুর্নামেন্টের প্রায় এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি প্রতিনিধিত্ব তৈরি করেছে।

এই তালিকায় এশিয়া থেকে রয়েছে ইরান, ইরাক, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব এবং উজবেকিস্তান। আফ্রিকা থেকে জায়গা করে নিয়েছে আলজেরিয়া, মিশর, মরক্কো, সেনেগাল ও তিউনিসিয়া। ইউরোপ থেকে রয়েছে তুরস্ক এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। এই দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে জর্ডান ও উজবেকিস্তান, কারণ দুই দেশই এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে।

বিশ্বকাপের এই সম্প্রসারিত ফরম্যাট এশিয়া ও আফ্রিকার দলগুলোর জন্য সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মুসলিম দেশগুলোর উপস্থিতিতে। একদিকে ইরাক দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপে ফিরে এসেছে, অন্যদিকে কাতার এবার বাছাইপর্ব পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে, যা তাদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইভাবে মরক্কো, সেনেগাল ও তিউনিসিয়ার মতো দলগুলোও আফ্রিকান ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।

এই পরিবর্তন শুধু মাঠের ভেতরের হিসাব নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের আবেগেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এক সময় যেখানে মুসলিম দেশগুলোর উপস্থিতি ছিল সীমিত, এখন সেখানে ১৩টি দেশের শক্তিশালী অংশগ্রহণ বিশ্বকাপকে দিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। ফলে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের সেই পুরোনো সমর্থন সংস্কৃতি—যেখানে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আলাদা টান কাজ করত—সেটিও নতুন করে আলোচনায় ফিরে এসেছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু একটি সম্প্রসারিত টুর্নামেন্ট নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের ফুটবল উপস্থিতির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়, যেখানে পরিচিত শক্তিগুলোর পাশাপাশি উঠে এসেছে নতুন অনেক মুখ এবং তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন বৈশ্বিক ফুটবল মানচিত্র।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link