ভিসা জটিলতায় বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ সোমালি রেফারির

দীর্ঘ পরিশ্রম আর স্বপ্নের জাল বোনা সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যখন একেবারেই হাতের নাগালে, তখনই বাধ সাধল রাজনৈতিক সমীকরণ।

বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই একজন রেফারির জন্য পেশাগত জীবনের চূড়া স্পর্শ করার সুযোগ। দীর্ঘ পরিশ্রম আর স্বপ্নের জাল বোনা সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যখন একেবারেই হাতের নাগালে, তখনই বাধ সাধল রাজনৈতিক সমীকরণ। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আব্দুল কাদির আরতানের জন্য সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি শেষ পর্যন্ত দু:স্বপ্নে রূপ নিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতায় তাঁর বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার ঐতিহাসিক অভিযাত্রা থমকে গেছে এখানেই। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাথে এক আলাপচারিতায় নিজের চরম হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের নীল নকশায় নিজের নাম লেখাটা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত লক্ষ্য ছিল না। বরং সোমালিয়ার ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বকারী মাত্র সাতজন নির্বাচিত রেফারির এলিট তালিকায় তাঁর জায়গা পাওয়াটা ছিল এক বিশাল অর্জন। কিন্তু সেই অর্জন শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ানোর আগেই মিলিয়ে গেল।

​তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই মুহূর্তটিতে আমি বড্ড বেশি হতাশ। একজন সাধারণ রেফারি হিসেবে আমার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপের অংশ হওয়া। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই উৎসবে নিজেকে মেলে ধরার আকাঙ্ক্ষাটাই আমার সব ছিল।’

জানিয়ে রাখা ভাল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা সাতটি আফ্রিকান রাষ্ট্রের একটি হলো সোমালিয়া। তবে আরতানের দাবি, তিনি প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি নথিপত্র এবং বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি।

অথচ ফুটবলের বিশালতায় বিভেদ ভুলে এই মহাযজ্ঞে সবার একত্রিত হওয়ার কথা। কিন্তু এই ঘটনা যেন আবারো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে – রাজনীতি আর সীমান্তের কাঁটাতার মাঝে মাঝে স্বপ্নকেও বন্দি করে ফেলে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link