এবারের বিশ্বকাপ কী তবে লাল কার্ডের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে? মেক্সিকো আর দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে হওয়া এবারের আসরের প্রথম ম্যাচেই দুই দলের খেলোয়াড় মিলিয়ে দেখেছেন তিনটি লাল কার্ড। তবে কি পুরো আসর জুড়েই এভাবে রেফারির কার্ডের ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকতে হবে মাঠে নামা ২২ জন খেলোয়াড়কে?
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ কিংবা ২০২২ সালের সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপের পুরো আসর মিলে মাত্র চারবার করে দেখা গিয়েছিল রেফারিদের লাল কার্ড বের করতে। সেখানে এবার প্রথম দিনেই রেফারি উইলটন সাম্পাইও দেখালেন কার্ডের ছড়াছড়ি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিতোলে ও থেম্বা জোয়ানে মাঠ ছাড়ার পর, অতিরিক্ত সময়ে মেক্সিকোর সিজার মন্তেস লাল কার্ডের খাঁড়ায় পড়েন।
২০০৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো একক ম্যাচে তিনবার লাল কার্ডের দেখা মিলল। সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনার অধীনে যে নমনীয় ও কার্ডহীন ফুটবলের যুগ আমরা দেখতে শুরু করেছিলাম, উদ্বোধনী ম্যাচের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝড় যেন সেই চেনা শান্ত ধারাকে এক বড় ধাক্কা দিল।

ম্যাচের প্রথম লাল কার্ডটি ছিল পুরোপুরি অবধারিত, যেখানে গোল করার স্পষ্ট সুযোগ নষ্ট করায় সিতোলে বহিষ্কার হন। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) মাধ্যমে জোয়ানের পাওয়া দ্বিতীয় কার্ডটি ছিল বেশ বিতর্কিত; যা ফুটবল ভক্তদের মনে জন্ম দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ আর সীমাহীন বিস্ময়।
অনেকেই ভাবছেন, তবে কি এবার মাঠের ‘ডার্ক আর্টস’ বন্ধ করতে রেফারিদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া? রেফারির নেওয়া মন্তেসের শেষ লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি ফুটবলের নিয়মের দিক থেকে সঠিক ছিল বলেই বলা যায় রেফারিরা ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।
১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ম্যাচটি হয়তো কেবল একটি ব্যতিক্রমী পরিসংখ্যানের উদাহরণ হয়েই থাকবে। তাই রেফারিদের নিয়ে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে ফুটবলারদের খেলে যেতে হবে নিজেদের চেনা ছন্দে আর নিয়মের গণ্ডির মধ্যে থেকে। তাতেই মাঠে লাল কার্ড নয় বরং দেখা যাবে সুন্দর ফুটবলের প্রদর্শন।











