পুরো লস অ্যাঞ্জেলস জুড়ে আলোর রোশনাই। সেই আলোর একটুখানি নিজের দিকে টেনে নিলেন জিওভানি রেইনা। ৮২ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমেই নিজের জাতটা চিনিয়ে গেছেন। নান্দনিকতার চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গিয়ে নজরকাড়া এক গোলও করেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপের সেই আক্ষেপ আর বিতর্কের ওপর যেন সুবাসিত এক প্রলেপ এঁটে দিলেন রেইনা।
ম্যাচের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত তখন। ৮২ মিনিট পর্যন্ত বেঞ্চে বসেই দেখেছেন দলের খেলা। তবে সেখানে তাঁর অবদান নেই। কেবলই দর্শক হয়ে হাততালি দেওয়ার জন্য তো তিনি আসেননি। নিজেকে চেনানো দরকার, একটা সুযোগ পেলেই আলো কেড়ে নিতে হবে।
সুযোগটা এলো, মালিক টিলম্যানের জায়গায় মাঠে প্রবেশ করলেন ২৩ বছরের এই মিডফিল্ডার। মঞ্চটা যে তৈরিই ছিল তাঁর জন্য। আর সুযোগটা এলো অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে। সুযোগ পেলে সময়টাকে নিজের করে নিতে পারলেই নায়ক হওয়া যায়। তাই তো ভুল করলেন না রেইনা।

বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার এক আউটসাইড-দ্য-বুট শট নিলেন। পায়ের নিখুঁত পরশ পেয়ে বলটা সোজা আছড়ে পড়ল প্যারাগুয়ের জালে। একেবারে ছবির মতো ফিনিশিং।
কিন্তু এই উজ্জ্বল মুহূর্তের পেছনে লুকিয়ে আছে এক জটিল পথচলা। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে তৎকালীন কোচ গ্রেগ বার্হাল্টারের সঙ্গে বিবাদের কারণে প্রায় দল থেকে বাদ পড়ার পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন রেইনা। সেই বিতর্কের ছায়া পেরিয়ে তিনি আবার ফিরে এসেছেন জাতীয় দলে, নতুন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে।
বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের এই মিডফিল্ডার গত মার্চে বেলজিয়াম ও পর্তুগালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। এরপর গত নভেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে পচেত্তিনোকে মুগ্ধ করার পরই তার জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলে যায়। তবে ক্লাব পর্যায়ে সময়টা খুব একটা সহজ ছিল না, বুন্দেসলিগায় তিনি মাত্র আটটি ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলেছেন, পুরো মৌসুম জুড়ে সুযোগ এসেছে সীমিতভাবে, তবুও কোচের চোখে রেইনা ছিলেন বিশেষ কেউ।

এই যে বিশেষ কেউ হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এক ফুটবল ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারও। তাঁর বাবা ক্লাউদিও রেইনা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং চারটি বিশ্বকাপে খেলা কিংবদন্তি মিডফিল্ডার। মা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল দলের সদস্য। ফুটবলের এই রক্তধারা থেকেই গড়ে উঠেছেন জিওভানি রেইনা।
আর এখন, সেই উত্তরাধিকার বহন করেই তিনি আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন, তবে এটা হয়তো ভূমিকায় লিখছে এখনও। উপসংহারে ক্যারিয়ারটা কোথায় যায় সেটা সময় বলে দেবে!
Share via:










