জাদুকরী এক হ্যাটট্রিক উপহার দিলেন লিওনেল মেসি। গোল পাওয়ার পরপরই মাঠে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শেষে জানা গেল, এই কান্নার কারণ ছিল অন্য কিছু।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ পরবর্তী সময়ে নিজের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন মেসি। ফুটবলের বাইরের কিছু ব্যক্তিগত কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বেশ কিছু কঠিন দিন পার করেছেন। তবে দলের সতীর্থরা সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন বলে তিনি কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, ‘পুরো দল এবং আমার সতীর্থরা সবসময় আমার পাশে ছিল এবং এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাকে অনেক শক্তি জুগিয়েছে।’

ফুটবল যে তাঁর জীবনের পরম আবেগ, সেটিই বারবার ফুটে উঠল মেসির কণ্ঠে। তিনি জানালেন, ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা, তা আজও অমলিন। যখন তিনি ছন্দে থাকেন, তখন মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে চান।
ম্যাচ নিয়ে বিশ্লেষণে তিনি জানান, প্রথমার্ধে কিছুটা লড়াই করতে হলেও দ্বিতীয়ার্ধে তারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান তৈরি করতে পেরেছেন। তাঁর মতে, ‘বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, আর এটি কখনোই সহজ নয়।’
গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার ভক্তের আত্মত্যাগের কথাও ভুলেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির মতে, কাতার থেকে শুরু করে বর্তমানের এই যুক্তরাষ্ট্র – প্রতিটি আসরেই ভক্তরা তাদের ছায়া হয়ে আছেন।

সমালোচকদের কণ্ঠে প্রশ্ন ছিল, ৩৯ বছর বয়সে মেসি কি আর আগের মতো সেই জাদুকরী পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারবেন? কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনি করলেন বিধ্বংসী এই হ্যাটট্রিক।
সমালোচকদের সব সংশয়ের জবাব যেন মাঠে নামিয়ে দিলেন। বয়সের কাঁটা যে তাঁর পায়ের জাদুতে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি, তা আজ অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত।











