অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের আরও এক মহাকাব্য!

রূপকথার কোন গল্প কি এর থেকে সুন্দর? রূপকথার কোন নায়ক কি লিওনেল মেসির চেয়ে অবিশ্বাস্য? কী এক অকল্পনীয় প্রত্যাবর্তন! পিছিয়ে পড়া থেকে আরও একবার গর্জে ওঠা। আর্জেন্টিনা বলেই সব সম্ভব।

রূপকথার কোন গল্প কি এর থেকে সুন্দর? রূপকথার কোন নায়ক কি লিওনেল মেসির চেয়ে অবিশ্বাস্য? কী এক অকল্পনীয় প্রত্যাবর্তন! পিছিয়ে পড়া থেকে আরও একবার গর্জে ওঠা। আর্জেন্টিনা বলেই সব সম্ভব। মেসি আছেন বলেই অসাধ্য সাধন হয়। তাই তো সব বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পা রাখল আলবিসেলেস্তেরা।

ইতিহাসের লড়াই, ঐতিহ্যের লড়াই, অস্তিত্বের জানান দেওয়ার লড়াই। দুই দলের লড়াইটা তাই ছিল একটু আলাদা। প্রথমার্ধটা কেটেছে শারীরিক শক্তির প্রয়োগে। ফুটবল শিল্পটা সেখানে অনুপস্থিতই ছিল। যার ফলাফল, বিরতির আগে ফাউলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯-এ, যার মধ্যে আর্জেন্টিনারই ছিল ১২টি। সবচেয়ে অবাক করা তথ্য, প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো দলই গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনালে এমন ঘটনা এই প্রথম।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের গতি। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে উল্টো আঘাত হানে ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত দিয়ে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে অ্যান্থনি গর্ডন ইংলিশদের এগিয়ে দেন। হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা।

গোল হজমের পর একের পর এক আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। মুহুর্মুহু আক্রমণে দিশেহারা তখন ইংল্যান্ডের রক্ষণ। খালি গোলটাই আসছিল না। কখনো গোলপোস্ট, ভাগ্য নিয়ে খেলেছে, কখনো পিকফোর্ড।

শেষ পর্যন্ত ভাঙতেই হয় ইংলিশ রক্ষণ। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক দূরপাল্লার শটে জালে বল জড়ান এনজো ফার্নান্দেজ। সেই গোলেই সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা এবং নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় পুরো দল।

সমতায় ফিরেই থেমে থাকেননি মেসিরা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে নিখুঁত ক্রস থেকে আরেকটি জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেন মেসি। তাঁর ভাসিয়ে দেওয়া বল দারুণ এক হেডে জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে অবিশ্বাস্যভাবে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড শিবির।

শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড। একসময় লিডে থেকেও শেষ কয়েক মিনিটের ঝড়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় থমাস টুখেলের দলের। তাতেই আরও একবার স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল আর্জেন্টিনা। এবার শেষ ধাপ পার হওয়া বাকি। যেখানে সবচেয়ে বড় বাধা স্পেন। ওটা পেরোতেই পারলেই মেসি আরও একবার পাবেন অমরত্বের সন্ধান।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link