ফিফার কঠিন শাস্তির মুখে কি আর্জেন্টিনা!

ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্কটা যতই অস্বীকার করা হোক, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—মাঠের বাইরের বাস্তবতা কখনো মাঠ থেকে আলাদা থাকে না। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথে এই সত্যটাই যেন আরেকবার সামনে এলো।

ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্কটা যতই অস্বীকার করা হোক, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—মাঠের বাইরের বাস্তবতা কখনো মাঠ থেকে আলাদা থাকে না। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথে এই সত্যটাই যেন আরেকবার সামনে এলো।

আটলান্টার মঞ্চে সেমিফাইনালের রোমাঞ্চ তখন তুঙ্গে। পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। কিন্তু জয়ের সেই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল আরেকটি গল্প—ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে পুরোনো বিরোধের স্মৃতি। “লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস” লেখা ব্যানার হাতে খেলোয়াড়দের উদযাপন সেই স্মৃতিই নতুন করে উসকে দিল।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক ছিল না। ঊনিশশো বিরাশি সালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পর্যন্ত হয়েছিল, প্রাণ হারিয়েছিলেন শত শত সেনা। সেই ক্ষত এখনো দগদগে, আর ফুটবল মাঠে এমন প্রতীকী প্রদর্শন তাই কখনোই নিছক উদযাপন হিসেবে দেখা হয় না।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক বার্তাবাহী কোনো প্রতীক প্রদর্শন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দুই হাজার চৌদ্দ সালেও একই স্লোগান নিয়ে ছবি তোলার জন্য শাস্তি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে সেবার ঘটনাটি ছিল একটি প্রীতি ম্যাচের আগে, আর এবার ঘটল বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর ঠিক পরপরই—যা বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

প্রশ্ন উঠছে, ফিফা কি এবার আরও কঠোর হবে? পুরোনো নজির বলছে, সাধারণত জরিমানা আর তিরস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকে এমন শাস্তি, নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত গড়ায় না। কিন্তু বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ফিফাকে কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য করতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।

মাঠে যে জয় আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে, সেই জয়ের ছায়াতেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এক কূটনৈতিক বিতর্ক। শিরোপার স্বপ্ন পূরণের আগেই কি তবে মূল্য দিতে হবে আর্জেন্টিনাকে?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link