রাজা ফিরলেন চিরচেনা সিংহাসনে!

রাজা ফিরলেন তাঁর সিংহাসনে। তরবারী তুলে জানিয়ে দিলেন, অভয় দিলেন—”যতক্ষণ আমি আছি, ভয়ের কিছু নেই।”

বিরাট কোহলিকে নিয়ে সমর্থকদের অনুভূতিটা ঠিক এমনই। তিনি ব্যাট হাতে নামলেই শুধু রান নয়, জেগে ওঠে বিশ্বাসও। আর তাঁর সঙ্গে যেন মাঠে নামে রেকর্ডের এক বিশাল ইতিহাস। কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সেই চেনা গল্পই লিখলেন ভারতীয় ব্যাটিং সম্রাট।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬৬ বলে ৬৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন কোহলি। ৮টি চার মেরে শুরু থেকেই ইনিংসকে এগিয়ে নিয়েছেন নিজের পরিচিত ছন্দে। শুরুর ধৈর্যের পর কভার ড্রাইভ, ফ্লিক আর নিখুঁত টাইমিংয়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের চাপে ফেলেছিলেন তিনি। তবে ইনিংস বড় করার আগেই জফরা আর্চারের বাউন্সারে টপ-এজ হয়ে আদিল রশিদের হাতে ধরা পড়েন।

যদিও এই ৬৫ রানও ছিল বিশেষ। এটি কোহলির টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে অর্ধশতক। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও তিনি করেছিলেন ঠিক ৬৫ রান। অর্থাৎ, ধারাবাহিকতার বার্তাটা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও একটি মাইলফলক। এটি ছিল কোহলির ক্যারিয়ারের ৭৮তম ওয়ানডে ফিফটি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের তালিকায় রিকি পন্টিংকে ছাড়িয়ে উঠে এসেছেন শীর্ষ পাঁচে।

শতক হয়নি, কিন্তু তাতে কী! কোহলির ব্যাটে যখন রান আসে, তখন শুধু স্কোরবোর্ডই বদলায় না, বদলে যায় পুরো দলের আত্মবিশ্বাসও। বিশ্বকাপের আগে ভারতের জন্য এর চেয়ে বড় সুখবর আর কী হতে পারে? রাজা হয়তো শতক পাননি, কিন্তু তিনি জানিয়ে দিয়েছেন—সিংহাসন এখনও তাঁরই।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link