ফাইনালের দুই পরাশক্তিকেও আটকে দিয়েছিল কেপ ভার্দে!

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কিছু দল থাকে, যারা ট্রফি জেতে না, কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরও মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গল্পের নাম—কেপ ভার্দে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কিছু দল থাকে, যারা ট্রফি জেতে না, কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরও মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গল্পের নাম—কেপ ভার্দে।

আফ্রিকার ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্রটি বিশ্বকাপে এসেছিল আন্ডারডগ হিসেবে। কিন্তু বিদায় নেওয়ার সময় তারা রেখে গেছে এক অসাধারণ গল্প।

একটি পরিসংখ্যানই তাদের লড়াইয়ের প্রমাণ। ফাইনালে ওঠা দুই দল—স্পেন ও আর্জেন্টিনা—কেউই কেপ ভার্দেকে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে হারাতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে স্পেনের সঙ্গে ড্র করেছিল তারা। আর নকআউটে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হারলেও মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে কেপ ভার্দে।

এই রূপকথার সবচেয়ে বড় নায়ক গোলরক্ষক ভোজিনহা  । পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার। স্পেনের বিপক্ষে যেমন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দীর্ঘ সময় ধরে মেসি-লাউতারোদের হতাশ করেছেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণেই কেপ ভার্দে বড় বড় দলগুলোর সামনে এতক্ষণ টিকে থাকতে পেরেছিল।

বিশ্বকাপ শেষ করে দেশে ফেরার পর দেখা গিয়েছিল আরেকটি আবেগঘন দৃশ্য। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসে হাজারো মানুষ। হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে হাসি আর চোখে গর্ব। যেন ট্রফি না জিতেও চ্যাম্পিয়নদের মতোই বরণ করে নেওয়া হলো নিজেদের বীরদের।

এই বিশ্বকাপের পর বদলে গেছে কেপ ভার্দের পরিচয়ও। আগে যাদের অনেকেই চিনতেন না, সেই দলটিই এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের দ্বিতীয় প্রিয় দলে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেড়েছে তাদের জনপ্রিয়তা, আর ভোজিনহা হয়ে উঠেছেন কোটি মানুষের নতুন প্রিয় গোলরক্ষকদের একজন।

সব গল্প ট্রফি জিতে লেখা হয় না। কিছু গল্প লেখা হয় সাহস দিয়ে, কিছু গল্প লড়াই দিয়ে, আর কিছু গল্প লেখা হয় কোটি মানুষের হৃদয় জিতে। ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে ঠিক তেমনই একটি গল্প লিখে গেল।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link