ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের মাত্র দুই বছর আগে, ভবিষ্যতের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলেছিল ভারত! মাঠটা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স। গ্যালারিতে প্রায় ৮০ হাজার দর্শক। আর সেই ম্যাচ আজও ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে।
ভাবুন তো, কি বিস্ময়কর এক গল্প। তবে গল্প হলেও পুরোপুরি সত্যি এক ইতিহাস।
তখন ১৯৮৪ সাল। ক্রিকেটের জন্য পরিচিত ইডেন গার্ডেন্স তখন রূপ নিয়েছিল ফুটবলের মহারণের মঞ্চে। নেহেরু কাপ খেলতে ভারতে এসেছিল বিশ্বের কয়েকটি শক্তিশালী দল। তাদের মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনাও।

তবে এটা কোনো সাধারণ আর্জেন্টিনা ছিল না। দলের কোচ ছিলেন কিংবদন্তি কার্লোস বিলার্দো। আর স্কোয়াডে ছিলেন হোর্হে বুরুচাগা, নেরি পুম্পিদো, রিকার্দো জিউস্তি, অস্কার গারে, হেক্টর কুপার ও রিকার্দো গারেকা—যাদের অনেকেই ঠিক দুই বছর পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার নায়ক হবেন।
১৪ জানুয়ারি, ইডেন গার্ডেন্স। এক পাশে ভবিষ্যতের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, অন্য পাশে ভারত। কাগজে-কলমে ম্যাচটা ছিল একপেশে। কিন্তু, মাঠের গল্পটা ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম।
ভারতের ডিফেন্ডাররা একের পর এক আর্জেন্টাইন আক্রমণ ঠেকিয়ে দিচ্ছিলেন। মিনিট পেরোচ্ছে, কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছে না বিলার্দোর দল। গ্যালারিতে তখন বাড়ছে উত্তেজনা।

শেষ পর্যন্ত ৭৯ মিনিটে রিকার্দো গারেকার একমাত্র গোলে জয়ের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। স্কোরলাইন ছিল মাত্র ১-০। হ্যাঁ, ভারত হেরেছিল। কিন্তু সেই হারও ছিল এক গর্বের গল্প। কারণ ভবিষ্যতের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখা সহজ কাজ ছিল না।
আরেকটি ইতিহাসও তৈরি হয়েছিল এই টুর্নামেন্টে। নেহেরু কাপের ১৯৮২ সংস্করণ ছিল ভারতের প্রথম রঙিন টেলিভিশন সম্প্রচার হওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট।
১১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই আসরে অংশ নিয়েছিল ছয়টি দল। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে চীনকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নেহেরু কাপের শিরোপা জেতে পোল্যান্ড।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন দুজন—পোল্যান্ডের রোমান ভইচিস্কি এবং আর্জেন্টিনার রিকার্দো গারেকা, দুজনেরই গোল ছিল তিনটি করে। যদিও, সব ছাপিয়ে সেবার মূল আলো কেড়েছিল আর্জেন্টিনার সাথে ভারতের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াই।










