মেসি উইল বি সেইন্টেড, অ্যাগেইন

মেসির সামনে এখন শুধু একটা প্রতিপক্ষ নয়, দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের একটা গোটা পাতা। স্পেনকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা যদি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নেয়, তাহলে একই রাতে ভেঙে যাবে একাধিক অবিশ্বাস্য রেকর্ড।

মেসির সামনে এখন শুধু একটা প্রতিপক্ষ নয়, দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের একটা গোটা পাতা। স্পেনকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা যদি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নেয়, তাহলে একই রাতে ভেঙে যাবে একাধিক অবিশ্বাস্য রেকর্ড।

ব্যক্তিগত অর্জনের কথাই ধরা যাক। ইতিমধ্যে আটটি ব্যালন ডি’অর নিজের নামে করে রাখা মেসির জন্য এই বিশ্বকাপ জয় মানেই ক্যারিয়ারের নবম ব্যালন ডি’অরের পথ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলা। ঊনচল্লিশ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে পুরো টুর্নামেন্টে এমন পারফরম্যান্স দেখানো— এর চেয়ে বড় দাবিদার আর কে হতে পারেন! ফুটবলের সবচেয়ে বিরল স্বীকৃতি “সুপার ব্যালন ডি’অর”-এর দৌড়েও এমনিতেই সবার আগে আছেন মেসি। ১৯৮৯ সালে একবারই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল, আলফ্রেদো দি স্টেফানোকে— এরপর প্রায় সাড়ে তিন দশক পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয়বার আর কাউকে এই সম্মান দেওয়া হয়নি। এই দৌড়ে  সবচেয়ে এগিয়ে থাকা মেসি এবার বিশ্বকাপটাও জিতে নিলে হয়তো আর কোনো প্রশ্নই থাকবে না— ভবিষ্যতে যদি কখনো এই পুরস্কার আবার দেওয়া হয়, সবচেয়ে জোরালো দাবিদার হিসেবে তার নামটাই হয়তো সবার আগে উচ্চারিত হবে।

দলীয় ইতিহাসও অপেক্ষা করছে। ১৯৫৮ আর ১৯৬২ সালে পেলের ব্রাজিলের পর গত চৌষট্টি বছরে কোনো দল টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনা জিতলে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে এক ঝটকায়। আর কাফুর পর তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দ্বিতীয় ফুটবলার হওয়ার কীর্তি মেসি ইতিমধ্যে গড়ে ফেলেছেন— শিরোপা জিতলে সেই কীর্তি পাবে পূর্ণতা।

সংখ্যাতেও স্পষ্ট মেসির উত্থান। ২০২২ বিশ্বকাপের সাত ম্যাচে ছিল সাত গোল, তিন অ্যাসিস্ট। একই সাত ম্যাচের হিসেবে এবার আট গোল, চার অ্যাসিস্ট, ছাব্বিশটি সুযোগ তৈরি আর চব্বিশটি সফল ড্রিবল— প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

চার বছর আগে কাতারে যে গল্প “শেষ” মনে হয়েছিল, সেটাই কি এবার লেখা হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সোনালি অধ্যায় হিসেবে?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link