বিশ্বকাপ জিতলে আর আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলবেন না, এমনটাই ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্ক কুকুরেয়া। পেছনে অবশ্য যথাযথ কারণও ছিল, জীবনের লক্ষ্য যে থেমে গিয়েছিল ওই একটা কাপের মধ্যেই। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলের মুখে হাসি দেখতে চেয়েছেন, ছেলের জন্যই তো জিততে চেয়েছেন কাপটা। আর এই যাত্রায় নিজের সবটা উজাড় করে দিয়েছেন, আসরজুড়েই হয়েছেন স্পেনের এক্স ফ্যাক্টর।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন কুকুরেয়া। কখনও রক্ষণ সামলেছেন, কখনও বা প্রতিপক্ষের রক্ষণে গিয়ে ত্রাস ছড়িয়েছেন। পুরো বাম প্রান্তে চলেছে তাঁর একক রাজত্ব। বিশেষ করে বড় ম্যাচে তো তিনি রীতিমতো সবার চোখে অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছেন।
বিশেষ করে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের নায়ক হয়েছেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেদের মতো আগুনঝরা আক্রমণভাগকে সামনে পেয়েও এক মুহূর্তের জন্য ভেঙে পড়েননি স্পেনের এই লেফট-ব্যাক। নিজের ডিজিগনেটেড পজিশনের বাইরে গিয়ে তারকায় ঠাসা স্প্যানিশ আক্রমণের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন তিনি।

পুরো ৯০ মিনিট মাঠজুড়ে চষে বেড়ান তিনি। আর ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের সবটা উজাড় করে দেন। স্পেনের সাফল্যের বড় অংশজুড়ে তাঁর নাম খোদাই করে লেখা। তিনি না থাকলে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল ফাইনালের মুকুট পরতে পারত কি না সন্দেহ।
স্পেনের আক্রমণের নতুন রাস্তাটাই কুকুরেয়ার হাতে বানানো। দ্রুত দিক বদলে দেওয়া পাস, কিংবা দূরের পোস্টে ভেসে আসা বল—সবকিছুর শেষ গন্তব্য যেন সেই কোঁকড়ানো চুলের মানুষটি।
স্পেনের দলে তারকার অভাব নেই। রদ্রি আছেন, পেদ্রি আছেন, ইয়ামাল আছেন। তবু বিশ্বকাপে ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন আসলে কুকুরেয়া। নিঃসন্দেহে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক ছিলেন তিনি। নিঃসন্দেহে স্পেনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নায়কও তিনি। জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ছেলের জন্য এনে দিতে পেরেছেন একটা বিশ্বকাপ, আর এক টুকরো হাসি।











