অলিখিত ধ্যানধারণাও ভেঙেছেন পাও কুবার্সি!

স্পেন ৮ ম্যাচ খেলে গোল হজম করেছে মাত্র একটা। অবিশ্বাস্য ঠেকছে না? আর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পেছনের নায়ক ১৯ বছরের পাও কুবার্সি। দলের ডিফেন্স সামলানোর গুরুদায়িত্ব ছিল তার ছোট কাঁধে, তবে সেটা পালন করেছেন একেবারে নিখুঁতভাবে।

স্পেন ৮ ম্যাচ খেলে গোল হজম করেছে মাত্র একটা। অবিশ্বাস্য ঠেকছে না? আর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পেছনের নায়ক ১৯ বছরের পাও কুবার্সি। দলের ডিফেন্স সামলানোর গুরুদায়িত্ব ছিল তার ছোট কাঁধে, তবে সেটা পালন করেছেন একেবারে নিখুঁতভাবে। বয়সে কিশোর হলেও খেলেছেন যেন বহু যুদ্ধ জেতা অভিজ্ঞ এক ডিফেন্ডারের মতো। তাই তো যোগ্য লোকের হাতেই উঠেছে টুর্নামেন্টের উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

ব্লকিং, ইন্টারসেপশন, পজিশনিং, বল কেড়ে নেওয়ার টাইমিং, পেছন থেকে থ্রু পাস কিংবা খেলা বিল্ডআপ—আধুনিক একজন ডিফেন্ডারের যা যা গুণ থাকা দরকার, তার সবই যেন আছে কুবার্সির মধ্যে। একেবারে পারফেক্ট প্যাকেজ। লা মাসিয়ার রক্তধারার সুনাম যে এখনও অক্ষুণ্ণ, সেটা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন এই তরুণ স্প্যানিয়ার্ড।

আধুনিক ফুটবলে ডিফেন্ডারদের ব্যক্তিগত পুরস্কার জেতা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। কারণ ম্যাচ শেষে আলোটা সাধারণত পড়ে গোলদাতা কিংবা অ্যাসিস্ট করা ফুটবলারের ওপর। একজন ডিফেন্ডার যত নিখুঁতই খেলুন না কেন, তার অবদান অনেক সময় পরিসংখ্যানের আড়ালেই থেকে যায়। কিন্তু কুবার্সি এমন এক বিশ্বকাপ খেলেছেন, যেখানে তাকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগই ছিল না। প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকারদের জন্য তিনি ছিলেন এক দুঃস্বপ্ন।

স্পেনের পুরো টুর্নামেন্টের রক্ষণভাগ ছিল প্রায় অভেদ্য। আট ম্যাচে মাত্র একবার বল জড়িয়েছে তাদের জালে। এই পরিসংখ্যান কেবল গোলরক্ষকের কৃতিত্ব নয়, বরং সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ডিফেন্স লাইনেরও। আর সেই ডিফেন্সের নেতৃত্ব দিয়েছেন মাত্র ১৯ বছরের কুবার্সি। কখন সামনে উঠে প্রেস করতে হবে, কখন পেছনে নেমে জায়গা কাভার করতে হবে কিংবা কখন নিখুঁত ট্যাকলে আক্রমণ থামাতে হবে—সবকিছুতেই ছিল অসাধারণ পরিপক্বতা।

এই পুরস্কার জেতার মাধ্যমে কুবার্সি শুধু নিজের প্রতিভারই স্বীকৃতি পাননি, ভেঙেছেন দীর্ঘদিনের এক অলিখিত ধ্যানধারণাও। এই শতাব্দীতে কোনো ডিফেন্ডার ফিফার বড় টুর্নামেন্টে উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিততে পারেননি। লামিন ইয়ামাল, দেজিরে দুয়ে কিংবা আরও অনেক আলোচিত তরুণ তারকাকে পেছনে ফেলে এই সম্মান জিতেছেন কুবার্সি। সেটাই বলে দেয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার প্রভাব কতটা বিশাল ছিল।

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলেও এই অর্জনের গুরুত্ব বোঝা যায়। ১৯৭৮ সালের পর এত বড় মঞ্চে কোনো ডিফেন্ডার এমন স্বীকৃতি পাননি। প্রায় অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেই ইতিহাসে নিজের নাম লিখে ফেললেন কুবার্সি। এমন এক সময়ে, যখন ফুটবল দুনিয়া আক্রমণভাগের তারকাদের নিয়েই বেশি মাতামাতি করে, তখন একজন সেন্টার-ব্যাক নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই আলো কেড়ে নিয়েছেন সবার।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়, অবিশ্বাস্য এক রক্ষণভাগের নেতা হওয়া এবং টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের স্বীকৃতি—ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন অর্জন খুব কম ফুটবলারের ভাগ্যে জোটে। স্পেন হয়তো বিশ্বকাপ জিতেছে দল হিসেবে, কিন্তু তাদের এই শিরোপার ভিত গড়ে দিয়েছিলেন পাও কুবার্সি। প্রমাণ করেছেন—শুধু গোল করেই নয়, গোল ঠেকিয়েও ইতিহাস লেখা যায়।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link