রোনান-অ্যাডাম কি পারবেন বাংলাদেশের আক্রমণে ধার আনতে?

রোনান-অ্যাডাম জুটি শুধু সাময়িক সাফল্যই আনবে না, শক্তিশালী করবে দেশের ফুটবলের আগামীকে। সেদিন হয়তো খুব দূরে নয়, যেদিন হামজা চৌধুরীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ পতাকা ওড়াবেন এই দুই লড়াকু সৈনিক।

শরীরে বইছে উত্তাল ক্যারিবীয় রক্ত, অথচ হৃদয়ে লাল-সবুজের প্রতি টান। জ্যামাইকান গতির ঝড় আর আমেরিকান ড্রিবলিংয়ের সৌন্দর্য যদি একইসাথে বাংলাদেশের ফুটবলে দেখা যায়, তবে কেমন হবে? এমনই এক বিধ্বংসী জুটির দেখা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে অভিষেক হয়েছে রোনান সুলিভানের। সুদূর মার্কিন মুল্লুক থেকে এসে তিনি জয় করেছেন কোটি বাঙালির প্রাণ। তার পায়ের জাদুকরী ড্রিবলিং বয়সভিত্তিক সাফ জেতার আনন্দ দিয়েছে দেশকে। রোনান এখন অনূর্ধ্ব-২০ দলের মাঝমাঠের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম।

এবার রোনানের সাথে আক্রমণে ধার বাড়াতে যোগ দিচ্ছেন আরেক ‘ক্যারিবীয় দানব’ অ্যাডাম আব্বাস। অ্যাডামের নামটা বাংলার ফুটবল পাড়ায় এখনো অনেকটা নতুন। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বার্নলির বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা এই ফরোয়ার্ডের শারীরিক গঠন দেখে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের পিলে চমকে যেতে বাধ্য।

অ্যাডামের নানা-নানি বাংলাদেশী হলেও বাবার সূত্রে তার ধমনীতে জ্যামাইকান রক্ত বইছে। তাই জিনগতভাবেই তিনি প্রচণ্ড শক্তিশালী ও দীর্ঘদেহী। তার লম্বা চুল আর দানবীয় অঙ্গভঙ্গি প্রতিপক্ষ রক্ষণের বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ আধুনিক ফুটবলে পায়ের কারিকুরির সাথে পেশির জোর আর গতিময়তাও সমান জরুরি।

বাংলাদেশের ফুটবলে নব্বই মিনিট ধরে মাঠ কাঁপানোর দম কিংবা গোলমুখে কামানের গোলার মতো শট নিতে পারার সামর্থ্য খুব কম ফরোয়ার্ডেরই আছে। অ্যাডাম এলে সেই শূন্যস্থান পূরণ হবে। আর তার সাথে রোনানের বুদ্ধিদীপ্ত খেলার ছন্দ মিলে গেলেই কেল্লা ফতে!

ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, রোনান-অ্যাডাম জুটি শুধু সাময়িক সাফল্যই বয়ে আনবে না, শক্তিশালী করবে দেশের ফুটবলের আগামীকেও। সেদিন হয়তো খুব দূরে নয়, যেদিন হামজা চৌধুরীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ পতাকা ওড়াবেন এই দুই লড়াকু সৈনিক।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link