থেমে গেল ১১৫ বছর পুরনো ব্রেশিয়ার যাত্রা

পেপ গার্ডিওলা ব্রেশিয়ার হাত ধরেই ইতালিয়ান ফুটবলে নিজের ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। লুকা টনি, মারেক হ্যামসিক, মারিও বালোতেল্লি কিংবা সান্দ্রো তোনালির মতো তারকারা ব্রেশিয়ার জার্সিতে মাঠ কাঁপিয়েছেন। কিন্তু সেসবই এখন অতীত। আর নতুন কেউ এখানে ট্যাকটিক্যাল বা পায়ের কারিকুরি দেখাতে আসবেন না কখনো।

ইতালির ফুটবলের আকাশ থেকে চিরতরে নিভে গেল একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১১৫ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রেশিয়া ক্যালসিও এখন শুধুই ইতিহাস। ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ক্লাবটি ছিল মহাতারকা তৈরির কারখানা। এখানেই বিশ্ব প্রথম দেখেছিল ইতালির সেরা মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলোর ফুটবল জাদু। ইতালির সোনার ছেলে রবার্তো ব্যাজ্জিওয়ের বর্ণিল ক্যারিয়ারের সমাপ্তিও এই নীল-সাদা জার্সিতেই।

কিন্তু মাঠের সেই দাপট আর গ্যালারির গর্জন শেষমেশ স্তব্ধ হয়ে গেল চিরতরে। ইতালিয়ান ফুটবলের ‘হৃৎপিণ্ড’ হিসেবে পরিচিত ব্রেশিয়া এখন আর নেই।

মূলত, ক্লাবটির চেয়ারম্যান ম্যাসিমো চেলিনোর সময় থেকেই চরম আর্থিক অস্থিরতার শুরু। খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফদের বকেয়া বেতন আর ট্যাক্সের চাপে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ে ক্লাবটি। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে সিরি বি (দ্বিতীয় বিভাগে) লিগে অবনমিত হওয়ার পর আসে সেই অভিশপ্ত মুহূর্ত।

এরপরও শেষবার আইনি লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরো দেনার দায়ে উত্তর ইতালির ব্রেশিয়া আদালত ক্লাবটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছে সম্প্রতি। ফলে ক্লাবটি হারাচ্ছে তার লাইসেন্স। এতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের আবেগ আর ফুটবলীয় ঐতিহ্যের পরাজয় ঘটল টাকার অঙ্কের কাছে।

তবে ব্রেশিয়া শহর কি ফুটবল মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে? উত্তরটা, না। শহরটিতে ইউনিয়ন ব্রেশিয়া নামের নতুন একটি ফুটবল ক্লাবের জন্ম হয়েছে সম্প্রতি। হয়তো শীঘ্রই ক্লাবটি ব্রেশিয়ার পেশাদার ফুটবলের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠবে। স্টেডিয়ামে ছড়াবে দর্শক-সমর্থকদের উন্মাদনার জোয়ার।

কিন্তু ১১৪ বছরের সেই জমাট স্মৃতি কি পুনরায় তৈরি করা সম্ভব? বিখ্যাত কোচ পেপ গার্ডিওলা ব্রেশিয়ার হাত ধরেই ইতালিয়ান ফুটবলে নিজের ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। জর্গে হাজি, লুকা টনি, মারেক হ্যামসিক, স্টিফেন হ্যাপিয়াহ, মারিও বালোতেল্লি কিংবা সান্দ্রো তোনালির মতো তারকারা ব্রেশিয়ার জার্সিতে মাঠ কাঁপিয়েছেন। কিন্তু সেসবই এখন অতীত। আর নতুন কেউ এখানে ট্যাকটিক্যাল বা পায়ের কারিকুরি দেখাতে আসবেন না কখনো।

শেষমেশ তাই বিদায়, ব্রেশিয়া ক্যালসিও! পিরলোর নিখুঁত পাস কিংবা ব্যাজ্জিও’র সেই মায়াবী হাসি ক্যালসিওর ইতিহাসে নীল-সাদা স্বপ্নের মতোই অমর হয়ে থাকবে।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link