ভুটানের মাটিতে আজ যখন সাফের কংগ্রেস বসছে, তখন প্রার্থীর তালিকায় একটাই নাম— কাজী সালাহউদ্দিন। প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, প্রশ্ন নেই, ভোটের উত্তেজনাও নেই। শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। আর এই নীরব অপেক্ষার মধ্য দিয়েই আরেকবার নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে— দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সিংহাসনে বসতে যাচ্ছেন সেই একই মানুষ, যিনি এই চেয়ারে বসে আছেন সতেরো বছর ধরে।
১৯৭১ সালে যে তরুণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের হয়ে ভারতের মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন যুদ্ধের তহবিল জোগাড় করতে, সময়ের স্রোতে সেই তরুণই হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশ ফুটবলের প্রথম নায়ক। মাঠে তাঁর পা থেকে বল বেরোনো মানেই ছিল গ্যালারিতে গুঞ্জন। ১৬ বছরের ক্লাব ক্যারিয়ারে ২০৪ ম্যাচে ১৫৩ গোল— সেই সংখ্যাটাই বলে দেয়, কেন তাঁকে এখনও ডাকা হয় দেশের সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে। মাঠ ছাড়ার পর সেই নায়কই হাঁটা শুরু করেন প্রশাসনের অলিগলিতে, আর একসময় হয়ে ওঠেন পুরো অঞ্চলের ফুটবলের অভিভাবক।
২০০৯ সালে প্রথমবার সাফের চেয়ারে বসেছিলেন সালাহউদ্দিন। তারপর একে একে চার মেয়াদ পার করে এখন পঞ্চমবারের অপেক্ষায়। মাঝে বয়সের একটা বাঁধ ছিল— ৭০ পেরোলে আর প্রার্থী হওয়া যাবে না, এমনই লেখা ছিল সাফের গঠনতন্ত্রে। কিন্তু গত বছর কলম্বোয় বসা বিশেষ সাধারণ সভায় সেই বাঁধ ভেঙে দেওয়া হয়েছে সর্বসম্মতিক্রমে। যেন সময়ও থমকে গেছে এক মানুষের জন্য।

সাফের গঠনতন্ত্রের ২৪.২ ধারা বলছে, প্রার্থীর সংখ্যা পদের সংখ্যা ছাড়িয়ে না গেলে ভোটের প্রয়োজন পড়ে না— সর্বসম্মতিক্রমেই নির্বাচিত হয়ে যান প্রার্থীরা। সালাহউদ্দিনের বেলাতেও ঘটছে ঠিক তাই। কংগ্রেসে পাস হলেই আসবে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর।
এবার বাংলাদেশের জন্য একটা বাড়তি প্রাপ্তিও আছে এই কংগ্রেসে। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ প্রথমবারের মতো জায়গা পাচ্ছেন সাফের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে। তাঁর সঙ্গী হচ্ছেন মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউ। আর সহ-সভাপতির চেয়ারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বসছেন শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে।
তবে সবকিছুর কেন্দ্রে সেই একটাই মুখ। মাঠে একদিন যিনি ছিলেন গোলের ঠিকানা, আজ তিনিই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল প্রশাসনের সবচেয়ে স্থায়ী চরিত্র। প্রশ্ন একটাই থেকে যায়— এই দীর্ঘ শাসনামলে অঞ্চলের ফুটবল কতটা এগিয়েছে, সেই হিসাব কে মেলাবে?












